গরমকালে অতিরিক্ত ঘামের কারণে আমাদের শরীরে জলের পরিমাণ কমতে থাকে। জল খেলে তেষ্টা মেটে। কিন্তু সেই ঘাটতি কখনোই পুরোপুরি পূরণ হয় না। আর সেই কারণেই ডাবের জল (Coconut Water), আঁখের রস, একটু রসালো ফল যেমন তরমুজ, আম ইত্যাদি খেতে হয়। কিন্তু শীতকালে ? এইসময় যেহেতু তুলনামূলকভাবে ঘাম কম হয়, তাই অনেকের জল খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়। Weight Loss: ওজন কমছে না, সারাদিন ক্লান্তি, ফুলছে পেট – জানেন কেন ?
চিকিৎসকদের মতে, গরমকালের থেকেও শীতকালে বেশি পরিমাণে জল খাওয়া প্রয়োজন। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে শরীরে জলের পরিমাণ অনেক কম হয়ে যায়। আবহাওয়া শীতল থাকার কারণে তেষ্টা কম পায়। তাই জল কম খাওয়া হয়। ফলে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে একমাত্র ডাবের জল। বার বার জল খাওয়ার থেকে, আপনি যদি নিয়মিত রোজ এক গ্লাস করে ডাবের জল খান, তাহলে আপনার শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
১. প্রাকৃতিক হাইড্রেটর ও ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধি
ডাবের জলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক হাইড্রেটর। জলের মধ্যে থাকা শর্করা অত্যন্ত কার্যকরী। পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ঘামের ফলে শরীর থেকে যখন জল বেরিয়ে যায় তখন এই ইলেক্ট্রোলাইট সেই জলের ঘাটতি পূরণ করে। ফলে শরীর সতেজ থাকে। একইসঙ্গে উচ্চ পটাশিয়াম থাকার কারণে শরীরে সোডিয়ামের প্রভাবকে ভারসাম্য এনে জলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
২. হার্ট ও রক্তচাপ
ডাবের জল হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণা থেকে জানা যায়, নিয়মিত ডাবের জল খেলে সিস্টোলিক (উপরের) রক্তচাপ কমাতে সাহায্য হতে পারে। এছাড়া, এটি LDL (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে এবং HDL (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে।

৩. হজম প্রক্রিয়া এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা
ডাবের জল খাদ্যনালীর জন্য খুবই উপকারী। এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর হালকা এবং পরিষ্কার প্রকৃতি হজমজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য একটি দারুণ বিকল্প। এটি অল্প ক্যালোরিযুক্ত একটি পানীয় হওয়ায় যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি চিনিযুক্ত পানীয়ের একটি চমৎকার বিকল্প। ডাবের জল পান করলে দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি হয়, যা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে।
৪. কিডনির স্বাস্থ্য এবং মূত্রনালীর কার্যকারিতা
ডাবের জল একটি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক (Diuretic) হিসেবে কাজ করে, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এটি কিডনিকে সুস্থ রাখতে এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়া রোধ করতেও ভূমিকা রাখে, যদিও এই বিষয়ে আরও বৃহত্তর গবেষণার প্রয়োজন।

৫. ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য
ডাবের জলের নিয়মিত খেলে ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা সাইটোকাইনিন (Cytokinin) নামক হরমোন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি কোষের পুনরুজ্জীবনে সাহায্য করে, ত্বককে সতেজ ও তারুণ্যময় রাখে। পানীয় হিসেবে গ্রহণ ছাড়াও, ত্বকে সরাসরি ডাবের জল ব্যবহার করলে ব্রণ, দাগ এবং বার্ধক্যের ছাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।