ART-036
Coconut Water: সুস্থ থাকতে শীতকালেও নিয়মিত খান ডাবের জল - TBS HerbTrove

Coconut Water: সুস্থ থাকতে শীতকালেও নিয়মিত খান ডাবের জল

অনেকেরই একটা ভুল ধারণা রয়েছে, যে ডাবের জল (Coconut Water) বোধ হয গরমকালেই খাওয়া ভালো। আসলে, ডাবের জল প্রতিদিন, ৩৬৫ দিনই খাওয়া ভালো। ডাবের জল প্রাকৃতিক “গ্যাটোরেড” হিসেবে পরিচিত যা খুব সহজেই শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। সারাদিনের যে ক্লান্তিভাব তা কমিয়ে দেয়। অনেকেই মনে করেন, ঠিকমতো ঘুম না হওয়া। অথবা, বেশি পরিশ্রমের কারণে হয়তো বেশি ক্লান্তিভাব আসে। শরীরের বিভিন্ন তরলের পরিমাণ কম থাকার ফলেই কিন্তু শরীর অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে যায়। তবে নিয়মিত ডাবের জল খেলে এই সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। Vegan Brands: ভারতের ১০ ভেগান সংস্থা তৈরি করে বিউটি প্রোডাক্ট

ডাবের জল কিভাবে মানুষের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি শরীরের নানান জটিল রোগ সমাধান করে চলুন দেখে নেওয়া যাক

ইলেক্ট্রোলাইটের সাহায্যে দ্রুত রিহাইড্রেশন

ডিহাইড্রেশন অলসতার মূল কারণ। যখন শরীরের উপকারী তরল পদার্থ বা জল কমে আসে তখন রক্তের আয়তন কমে যায়। সেই সময় হৃদপিন্ডের পক্ষে ব্রেইনে অক্সিজেন পৌঁছানো সমস্যাজনক হয়ে পড়ে।

পটাশিয়ামের ক্ষমতা : ডাবের জল পটাশিয়ামে পরিপূর্ণ এবং কলার থেকেও বেশি পটাশিয়াম উপস্থিত আছে ডাবের এই তরলে। পটাশিয়াম এর সাহায্যে খুব সহজেই হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হয়ে যায় ও শরীরের পেশিগুলো সহজে কাজ করতে পারে।

সোডিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম : অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার ফলে শরীর থেকে যেসব নুন বেরিয়ে যায় সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, এই দুই মিনারেল খুব সহজেই সেই নুনের ঘাটতি পূরণ করে।

প্রাকৃতিক গ্লুকোজের ভূমিকা : সাধারণ এনার্জি ড্রিংকে থাকে বহুল পরিমাণে শর্করা যা মানুষের উপকারের থেকে বেশি অপকার করে। শরকরায় পরিপূর্ণ এনার্জি ড্রিংক পান করার ফলে ইনসুলিনের মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে এবং কিছুক্ষণ বাদে ক্লান্তির মাত্রা বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ডাবের জল প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেটে পরিপূর্ণ এবং শরীরের ক্ষতি না করে খুব সহজেই শক্তি সঞ্চারন করতে সাহায্য করে। মানব দেহের পেশীর কাজ মসৃণ করতেও ডাবের জল বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।

নিয়মিত ডাবের জল খেলে হজম ক্ষমতা বাড়ে (Coconut Water for Digestibility)

জৈব সক্রিয় এনজাইম : ডাবের জলে উপস্থিত প্রাকৃতিক এনজাইম যেমন ফসফেট, ক্যাটালেস আর ডিহাইড্রোজেনেস শরীরের শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক বড় ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও মানব দেহের বিপাক প্রক্রিয়া মসৃণ করতেও সাহায্য করে। খাবারের হজম প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে মানব দেহের যত কম শক্তি ব্যবহৃত হবে শরীর ততো ভেতর থেকে হালকা হবে এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকবে।

সাইটোকাইনেসিস : ডাবের জল সাইটোকাইনিন নামক এক উদ্ভিদভিত্তিক হরমোনে পরিপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই সকল উপাদান শুধু শক্তি বৃদ্ধিতেই সাহায্য করে না, এতে রয়েছে অন্যান্য উপকারিতা যেমন ত্বককে টানটান এবং মসৃণ করা। তবে এই বিষয় গবেষণা চলছে কিন্তু গবেষকদের ধারণা সাইটোকাইনিন মানব দেহের প্রতিটা কোষে শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং কোষ কে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের হাত থেকেও রক্ষা করে যার ফলে আলস্য কমে গিয়ে মানুষের কাজ করার ইচ্ছা বৃদ্ধি পায় । ফলে শরীর চনমনে হয়ে যায়।

Author

  • Ahanjita Mahata

    প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক সুস্থতা (হোলিস্টিক ওয়েলনেস)-এর প্রতি গভীর আগ্রহ-সহ দৃঢ় একাডেমিক ভিত্তিসম্পন্ন একজন যোগ্য পুষ্টিবিদ। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন Midnapore College (Autonomous) থেকে পুষ্টিবিজ্ঞানে বি.এসসি (অনার্স) (প্রথম শ্রেণি) সম্পন্ন করেছেন এবং NSHM Knowledge Campus Durgapur-এর ডিপার্টমেন্ট অব ডায়েটেটিক্স অ্যান্ড নিউট্রিশন থেকে ডায়েটেটিক্স ও নিউট্রিশনে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন সার্টিফায়েড ডায়াবেটিস এডুকেটর।

    থেরাপিউটিক নিউট্রিশন, লাইফস্টাইলজনিত রোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রমাণভিত্তিক খাদ্য নির্দেশনায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সুপরিকল্পিত ও গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ এবং ব্যবহারিক ওয়েলনেস টিপসের মাধ্যমে তিনি পুষ্টি, ভেষজ স্বাস্থ্য এবং সুষম জীবনযাপনকে সহজভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে পাঠকরা স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে চলতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top