প্রকৃতি আমাদের সুস্থ রাখার জন্য চারপাশে অসংখ্য ভেষজ উপাদান ছড়িয়ে রেখেছে। সজনে গাছ বা মরিঙ্গা অন্যতম এক সুপারফুড (Moringa Boost)। অনেকেই একে মাল্টিভিটামিনের উৎস বলেও চিহ্নিত করেছেন। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, সজনে গাছে রয়েছে অনেক রোগের প্রতিষেধক এবং আজকের দিনে যা প্রমাণিত। সজনে গাছের পাতা, ছাল, ডাল, শিকড় এমনকি ফুল-প্রতিটি অংশই পুষ্টিগুণে ভরা।গরমের সময় বাজারে সজনে ডাটা পাওয়া যায়। কিন্তু শীত শেষে যখন বসন্ত আসে, তখনই দেখা মেলে ফুলের। সজনে পাতার সাথে সাথে সজনে ফুলের বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। Mental Health: ‘নেট’ ভাইরাসে আক্রান্ত! হীনমন্যতা আর হতাশা লক্ষণ
সজনে ফুলের গুণ (Moringa Flower as Booster)
অনেকেই জানেনই না, সজনে ডাটার থেকে সজনে গাছের ফুলের উপকারিতা অনেক বেশি। সেকারণেই বাজারে ডাটার চাহিদা থাকলেও ফুলের সন্ধান করে খুব কম লোকজন। তবে যারা জানেন, তারা ঠিক খুঁজে খুঁজে বাজার থেকে সজনে ফুল কিনে নিয়ে যান।
ভিটামিন-A, ভিটামিন-C ছাড়াও সজনে গাছের ফুলের সবথেকে উপকারি উপদান হল ভিটামিন B Complex।
ভিটামিন-A-এর বিটা ক্যারোটিনার ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে ভীষণ কাজে লাগে। আজকাল বাচ্চারা যেহেতু খুব কম বয়স থেকেই মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে, ফলে কম বয়স থেকেই চোখে চশমা লাগাতে হচ্ছে। এছাড়াও ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে দীর্ঘসময় স্কুলের প্রজেক্ট বা গেম খেলার জন্য চোখের রেটিনাতে চাপ তৈরি হয়। ফলে কস বয়স থেকেই যদি বাচ্চাদের নিয়োমিত সজনে ফুল খাওয়ানো হয়, তাহলে এর উপকারিতা সুদীর্ঘ হয়।
সজনে ফুলে ভিটামিন-C থাকার ফলে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কারণ ভিটামিন-C সবসময় মানব শরীরে, অ্যন্টি-অস্কিডেন্টের কাজ করে। বিশেষ করে, আবহাওয়া পরিবর্তনের (শীতের শেষের দিকে) সময় বেশি করে সজনে ফুল খেলে শরীর ভেতর থেকে গরম থাকে। ফলে চট করে শর্দি-কাশি কাছে ঘেঁষতে পারে না।
সজনে ফুলের সবথেকে উপকারি উপাদানগুলোর মধ্যে হল, ভিটামিন B-কমপ্লেক্স। থায়ামিন, বিরোফ্লাভিন এবং নিয়াসিন। এই তিন ভিটামিন থাকার ফলে, শরীর সব সময় চনমনে থাকে। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে ভিটামিন B3 বা নিয়াসিন পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে। ফলে খাবার সহজেই হজম হয়ে যায়। ফলে স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনেক বেশি সচল থাকে। ভিটামিন B2 বা রিবোফ্লাভিন কোষের বংশ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মৃত কোষ দ্রুত নষ্ট করে, এবং কোষের গঠনপ্রক্রিয়াকে একটা নির্দিষ্ট ভাবে চলতে সাহায্য করে। ফলে শক্তি বৃদ্ধি পায়।
১. বসন্ত রোগ, হাম বা চিকেন পক্স হওয়া থেকে রক্ষা করে।
২. পেটের গোলমাল দূর করে, হজম শক্তি বাড়ায়।
৩. সর্দি-কাশির সমস্যা দূর করে এবং সাইনাসের সমস্যা সমাধান করে।
সজনে ফুলের রেসিপি (Moringa Flower Boost Recipe)
সজনে ফুল বিভিন্ন পদ্ধতিতে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। তবে, যেকোনো রান্নার আগে সবসময়, ভালো করে হালকা গরম জলে সামান্য নুন ফেলে তা ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এরফলে, তাতে থাকা ধুলোবালি বা ছোটখাটো পোকামাকড় চলে যায়।
সজনে ফুলের বড়া বা পকোড়া: ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে তাতে সামান্য বেসন আর একটু চালের গুড়ো মিশিয়ে নিতে হবে। পরিমাণ মতো নুন, সামান্য কাঁচা লঙ্কা কুচি, একটু কালোজিরা আর হলুদ দিয়ে মেখে নিতে হবে। বাড়তি স্বাদের জন্য ধনেপাতা যোগ করে সেটি সামান্য তেলে ছোট ছোট করে ভেজে নিলেই হবে। গরম গরম ভাতে খেতে দুর্দান্ত লাগে।
সজনে ফুলের চচ্চরি : বাঙালির প্রায় সব বাড়িতেই রোজ একটা চচ্চরি রান্নার চল আছে। আলু-বেগুন একটু কুমরোর সঙ্গে সজনে ফুল ভালো করে ভেজে নিয়ে তাতে নুন-হলুদ সামান্য জিরে এবং ধনে গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো সবজি রান্না করা যায়।
ডালের সঙ্গে সজনে ফুল : প্রতিদিন যে ডাল খাওয়া হয়, তাতেও সজনে ফুল যোগ করে এক সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর রেসিপি তৈরি করা যেতে পারে। ডাল নামানোর আগে, একটু ভালো করে ধুয়ে সজনে ফুলগুলো তাতে মিশিয়ে দিলেই সুন্দর গন্ধ যেমন ছড়ায়, ঠিক তেমনই তার পুষ্টিও অনেক বেড়ে যায়।
সতর্কতা (Warning for using Moringa Boost)
কিছু কিছু বাজারে সারা বছর সজনে ফুল পাওয়া যায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি বা মার্চে কিনে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ, এই সময় গাছে নতুন ফুল ধরে। এবং টাটকা ফুল কিনে খাওয়া সবসময়ই বেশি গুণের। কাঁচা কোনো অবস্থাতেই সজনে ফুল খাওয়া ভালো না এবং সেটি না খাওয়াই ভালো। সব সময় চেষ্টা করবেন ভালো করে গরম জলে ধুয়ে রান্না করে খেতে। এছাড়াও বাসি খাবার একেবারেই খাবেন না। চেষ্টা করবেন, যেদিন রান্না করছেন সেদিনই খাওয়ার। কারণ বাসি খাবারে সবসময় সালমোনেলা, ই-কোলাই এর মতো খারাপ ব্যাক্টেরিয়া জন্মায়। যা বেশি খাবার ফলে পেট খারাপের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তবে ফ্রিজে রেখে খাওয়া যায়, কিন্তু এক্ষেত্রে সেটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। আসলে যেকোনো বাসি খাবারে ভিটামিন ও মিনারেলের পরিমাণ কমতে থাকে যা শরীরের কোনো কাজেই লাগে না।