ART-043
Mental Health: ‘নেট’ ভাইরাসে আক্রান্ত! হীনমন্যতা আর হতাশা লক্ষণ - TBS HerbTrove

Mental Health: ‘নেট’ ভাইরাসে আক্রান্ত! হীনমন্যতা আর হতাশা লক্ষণ

“সহজ কথা যায় না বলা সহজে / সহজ কথা যায় না শোনা সহজে।”— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই লাইন আজকের দিনে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। সোশ্যল মিডিয়ার চাপে (Mental Health) ট্র্যাডিশনাল সংবাদমাধ্যম এখন অনেকটাই কোণঠাসা। কেউ ছবি দিচ্ছে, স্ট্যাটাস লিখছে, রিল বানাচ্ছে—কিন্তু মনের সহজ কথাটা বলা বা শোনা কি সত্যিই সহজ? সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক অদৃশ্য চাপ, যা ধীরে ধীরে মানুষের মন বা মুডকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। ফলে অন্যের সাজানো ভালো থাকার পোস্ট দেখে বাড়ছে হীনমন্যতা, হতাশা।

সোশ্যাল মিডিয়া: সংযোগ না তুলনা? (Negative Impact of Social Media on Mental Health)

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব—এগুলো জীবনের অংশ। দূরের মানুষ কাছে আসে। পুরোনো বন্ধুদের খোঁজ মেলে। অনেক নতুন কিছু শেখা যায়। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন সংযোগের জায়গায় তুলনা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।
কারও ঘুরতে যাওয়ার ছবি, কারও সাফল্যের পোস্ট, কারও নিখুঁত সাজ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক “পারফেক্ট লাইফ”-এর ছবি। মাথাতেই আসে না এগুলো আসলে বাস্তবের সম্পূর্ণ ছবি নয়; বরং বেছে নেওয়া কিছু মুহূর্ত। তবু অজান্তেই মনে প্রশ্ন জাগে—“আমি কি পিছিয়ে পড়ছি?” এই তুলনা থেকেই জন্ম নেয় অস্থিরতা, হীনমন্যতা, এমনকি হতাশাও। Hair Loss: অসময়ে ঝরছে চুল, মাথা কি খালি হয়ে আসছে?

লাইক-কমেন্টের অদৃশ্য হিসেব (Social Media Impact on Mental Health)

একটা ছবি পোস্ট করার পর সাধারণত একজন ইউজার কি করে? বারবার ফোন হাতে নিয়ে চেক করে কত লাইক হলো? কে কমেন্ট করল? যে মানুষটা করল না, সে কেন করল না? ধীরে ধীরে মুড নির্ভর করতে শুরু করে সংখ্যার ওপর। বেশি লাইক মানে ভালো লাগা। কম লাইক মানে মন খারাপ। অথচ নিজের মূল্য কি সত্যিই কিছু সংখ্যার ওপর নির্ভর করে?

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন আমাদের মস্তিষ্কে ছোট ছোট আনন্দের সাড়া তৈরি করে। কিন্তু সেই আনন্দ খুব ক্ষণস্থায়ী। তাই আমরা আবার নতুন পোস্ট দিই, আবার অপেক্ষা করি। এভাবে তৈরি হয় এক চক্র—যেখানে স্বীকৃতির খোঁজে একটা সময় পর আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি।

Mental Health: 'নেট' ভাইরাসে আক্রান্ত! হীনমন্যতা আর হতাশা লক্ষণ @TBSHerbTrove

গ্ল্যামারের আড়ালের চাপ

রেড কার্পেট, ট্রেন্ডিং রিল, ভাইরাল চ্যালেঞ্জ—সবকিছুই যেন বলে, “তোমাকেও নিখুঁত হতে হবে।” অল্প বয়সের ছেলে-মেয়েরা বিশেষ করে এই চাপে বেশি পড়ে। নিজেদের শরীর, রঙ, পোশাক নিয়ে অযথা চিন্তা শুরু হয়। বড়রাও এর বাইরে নন। কর্মজীবনে সাফল্য দেখিয়ে পোস্ট না দিলে মনে হয় যেন কিছু একটা কম। এই নিরন্তর “দেখাতে হবে” মানসিকতা আসলে মানুষের ভেতরের শান্তিটুকু কেড়ে নেয়।

FOMO: কিছু মিস করার ভয়

“Fear of Missing Out” বা FOMO—এই শব্দটা এখন খুব পরিচিত। সবাই কোথাও যাচ্ছে, কিছু করছে, আনন্দ করছে—আমি বাদ পড়ে যাচ্ছি না তো? এই ভয় থেকেই আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় স্ক্রিনে কাটাই। রাত জেগে স্ক্রল করি। ঘুম কমে যায়। পরদিন ক্লান্ত লাগে। ক্লান্তি থেকে বিরক্তি, বিরক্তি থেকে মন খারাপ—একটা চক্র তৈরি হয়।

শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে প্রভাব (Effects of social media on child mental health)

ছোটদের মন খুব সংবেদনশীল। তারা যা দেখে, তা-ই সত্যি মনে করে। যদি সারাক্ষণ নিখুঁত ছবি আর ফিল্টার করা জীবন দেখে, তাহলে বাস্তবের সাধারণ জীবনকে কম মনে হতে পারে। ফলে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দেয়। অনেকে নিজের প্রতিভা বা গুণ ভুলে গিয়ে শুধু বাহ্যিক তুলনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই পরিবারে খোলামেলা কথা বলা খুব জরুরি—যাতে তারা বুঝতে পারে, সোশ্যাল মিডিয়ার ছবি মানেই পুরো সত্য নয়।

সব দোষ কি সোশ্যাল মিডিয়ার?

না, একেবারেই নয়। সোশ্যাল মিডিয়া নিজে খারাপ নয়। আমরা কীভাবে ব্যবহার করছি, সেটাই আসল।
অনেকে এখান থেকে নতুন দক্ষতা শিখছেন, ছোট ব্যবসা শুরু করছেন, লেখালেখি বা শিল্পের মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়ে তুলছেন। সচেতনভাবে ব্যবহার করলে এটা হতে পারে শক্তিশালী একটি মাধ্যম।

তাহলে সমাধান কী? (Curing Social Media’s Mental Health Impact)

(১) সময় বেঁধে ব্যবহার : দিনে কতক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকব, সেটা ঠিক করা দরকার। অকারণে স্ক্রল না করে নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করলে মানসিক চাপ কমে।
(২) লাইক নয়, সংযোগে গুরুত্ব: সংখ্যা নয়, কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিকারের বন্ধুত্ব আর সম্পর্ক লাইক দিয়ে মাপা যায় না।
(৩) নিজের বাস্তবকে ভালোবাসা: নিজের ছোট সাফল্য, ছোট আনন্দকেও মূল্য দিন। অন্যের জীবনের হাইলাইট দেখে নিজের জীবনকে ছোট করবেন না।
(৪) ডিজিটাল বিরতি: সপ্তাহে একদিন বা দিনে কয়েক ঘণ্টা “ডিজিটাল ডিটক্স” করা যেতে পারে। সেই সময় বই পড়া, গান শোনা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব মনকে সতেজ করে।
(৫) প্রয়োজনে সাহায্য নেওয়া: যদি মনে হয় সোশ্যাল মিডিয়া আপনার মুডে গভীর প্রভাব ফেলছে, ঘুম নষ্ট করছে বা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে—তাহলে পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

Mental Health: 'নেট' ভাইরাসে আক্রান্ত! হীনমন্যতা আর হতাশা লক্ষণ @TBSHerbTrove

সব শেষে একটা কথা মনে রাখতেই হবে যে সোশ্যাল মিডিয়া জীবনের একটি অংশ, পুরো জীবন নয়। সেখানে আলো আছে, সুযোগ আছে—কিন্তু ছায়াও আছে। আমরা যদি সচেতনভাবে ব্যবহার করি, তাহলে এটা হতে পারে শেখার, ভাগ করে নেওয়ার, অনুপ্রেরণা পাওয়ার একটি সুন্দর জায়গা। আর যদি অচেতনভাবে তুলনার ফাঁদে পা দিই, তাহলে সেটা আমাদের মনের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।

মনে রাখতে হবে, বাস্তব জীবনের হাসি, স্পর্শ, কথোপকথন—এসবের কোনো ফিল্টার লাগে না। নিজের সঙ্গে সংযোগ রাখলে, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটালে, আর সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতে হবে। সেটাকে যেন কখোনোই মনকে ব্যবহার করতে না দেওয়া হয়। তবেই “মাইন্ড & মুড ওয়েলনেস” শুধু একটি শব্দ নয়, হয়ে উঠবে প্রতিদিনের অভ্যাস।

Author

  • Ahanjita Mahata

    প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক সুস্থতা (হোলিস্টিক ওয়েলনেস)-এর প্রতি গভীর আগ্রহ-সহ দৃঢ় একাডেমিক ভিত্তিসম্পন্ন একজন যোগ্য পুষ্টিবিদ। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন Midnapore College (Autonomous) থেকে পুষ্টিবিজ্ঞানে বি.এসসি (অনার্স) (প্রথম শ্রেণি) সম্পন্ন করেছেন এবং NSHM Knowledge Campus Durgapur-এর ডিপার্টমেন্ট অব ডায়েটেটিক্স অ্যান্ড নিউট্রিশন থেকে ডায়েটেটিক্স ও নিউট্রিশনে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন সার্টিফায়েড ডায়াবেটিস এডুকেটর।

    থেরাপিউটিক নিউট্রিশন, লাইফস্টাইলজনিত রোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রমাণভিত্তিক খাদ্য নির্দেশনায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সুপরিকল্পিত ও গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ এবং ব্যবহারিক ওয়েলনেস টিপসের মাধ্যমে তিনি পুষ্টি, ভেষজ স্বাস্থ্য এবং সুষম জীবনযাপনকে সহজভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে পাঠকরা স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে চলতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top