সকালে ২০ মিনিট ফোন ছেড়ে থাকার অভ্যেস করুন। দেখবেন সকালটা একদম জাদুর মতো বদলে গেছে। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে আমরা যে কাজটা করি। সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সারাদিন সেই কাজের প্রভাব আমাদের মানসিক এবং শারীরিক অবস্থার (Digital Detox) গতিপ্রকৃতি ঠিক করে দেয়। কীভাবে ? Power Morning: গ্ল্যামার দুনিয়ার পাওয়ার মর্নিং! 8 নিয়ম মানলে হবে জীবনে ম্যাজিক
ধরা যাক কোনো এক সকালে আপনি ঠিক করলেন, ৫-১০ মিনিটের জন্য একটু ইনস্টাগ্রাম চেক করবেন। আপনি শুয়ে শুয়ে মোবাইল ঘাটা শুরু করলেন। কিন্তু একটার পর পেজ স্ক্রল করতে করতে, কখন যে ১০ মিনিট পেরিয়ে ১ ঘণ্টা হয়ে যাবে আপনি বুঝতেই পারবেন না। এরপর দেখলেন লক্ষ্যহীনভাবে একগাদা রিল স্ক্রল করে ফেলেছেন। তখনই মেজাজটা হঠাৎ করে বদলে যাবে। ঘুম থেকে উঠে মন ফুরফুরে থাকার কথা ছিল। অথচ, একগাদা রিল দেখে উল্টে খিটখিটে হয়ে গেল। আপনি যেমনটা ভেবেছিলেন তেমনটা কোনোভাবেই হল না।
মনোবিজ্ঞান বলছে, আমরা একটু সামান্য ক্লান্ত থাকলেই আমাদের ব্রেন ডোপামিন (Dopamine) পেতে চায়। সক মাধ্যম সেই চাহিদা দ্রুত মিটিয়ে দেয়। ফলে, ঠিক উল্টোটা ঘটে। কারণ এই ডোপামিন নামক হরমোন আমাদের আনন্দ দেওয়ার কাজ করে। এবার আমরা যখন সকালে উঠে ফোন চেক করি, এর অর্থ হলো, নিজের সঙ্গে কথা বলার আগেই নিজের মনোযোগ অন্যত্র বিলিয়ে দিই।
বিশেষজ্ঞরা সেই কারণে ‘ডোপামিন ডিটক্স’ এর কথা বার বার বলে থাকেন। কারণ, সকালে উঠেই ফোন ঘাটা- বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি এক্টিভ হয়ে পড়ার অর্থ হল অন্যের কাজের উপর নজরদারি চালানো। আর তখনই বাইরের জগৎ, মনোযোগ আর এনার্জি নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। নিজের সঙ্গে অন্যের কাজের তুলনা শুরু হয়। নিজেকে ছোট মনে হয়। অন্যের নতুন গাড়ি। নতুন চাকরি এমন কি কোথাও কফি খেতে গেছে দেখলেও নিজেকে নিয়ে আফসোস শুরু হয়। মনে হয়, আমি যেন একমাত্র যার কিছুই হচ্ছে না। Time Management: সময়কে গুরুত্ব দিন, সময় আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে

Frontiers in Psychiatry এক গবেষণায় দেখিয়েছে, কীভাবে প্রত্যেকটি মানুষের জীবন মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ করছে। সারা পৃথিবীতে কয়েক হাজার স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উপর একটি সমীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ ছাত্রছাত্রীর স্মার্টফোনের উপর সাংঘাতিক অ্যাডিকশন রয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে, বিশেষ করে আমাদের দেশেও এই প্রবণতা আছে। এবং তার অনুপাত অনেক অনেক বেশি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আমাদের মতো দেশে ৬০-৭০ শতাংশ পড়ুয়া মোবাইল ফোনের গ্রাস থেকে কিছুতেই বেরোতে পারছে না। এর ফলে বন্ধুর সংখ্যা কমছে। ছোট গ্রুপ বা বড় গ্রুপে থাকলেও সেখানে নিজেকে একা মনে করছে খুব কম বয়স থেকেই।
তাই এখন থেকেই সতর্ক (Digital Detox) হন। রোজ একটা নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। দিনের শুরুতে ২০ মিনিট একদম মোবাইল ফোন ছাড়া। কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ফোনে হাত দেওয়া যাবে না। যদি সম্ভব হয়, ফোন সুইচ অফ করে রাখুন। বা সাইলেন্ট করে রাখুন। নির্দিষ্ট সময়ের পর, আবার না হয় অ্যাক্টিভ করলেন।
ফোন-মুক্ত সকালের উপকারিতা (Digital Detox with no phone challenge)
সকালে ফোন না ধরার মানে এই নয় যে আপনাকে একদম নিখুঁত হতে হবে বা প্রযুক্তি চিরতরে ছেড়ে দিতে হবে। বরং নিজের এনার্জিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটা কৌশল। আপনি যদি এই পরিবর্তনটি আনেন, তবে যা খেয়াল করবেন:
- দিনের শুরুতেই আপনি অন্য মানুষের অভাব-অভিযোগ বা আপডেটের চাপে পড়বেন না।
- জানলা দিয়ে আসা সকালের আলো বা কফির স্বাদ আপনি আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভব করবেন। প্রতিটি কাজে আপনি অনেক বেশি মন দিতে পারবেন।
- হুট করে পাওয়া ডোপামিনের নেশা না থাকলে আপনার মস্তিষ্ক পরে গভীর বা সৃজনশীল কাজে বেশি মন দিতে পারে।
- স্ক্রল করার সাময়িক আনন্দ নয়, বরং জীবন যাপন করার এক সত্যিকারের তৃপ্তি পাবেন।

কিছু বাধা এবং তা কাটিয়ে ওঠার উপায় (Digital Detox Challenges)
ফোনের অভ্যাস ছাড়া সহজ নয়। বিশেষ করে যদি ফোনই আপনার অ্যালার্ম বা ক্যালেন্ডার হয়। এখানে কিছু টিপস দেওয়া হলো যা আপনার কাজ সহজ করবে:
- অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন (Digital Detox with Alarm Clock): সাধারণত আমরা ফোনেই অ্যালার্ম দিই। এই অভ্যাস বদলান। একটা সাধারণ অ্যালার্ম ঘড়ি কিনুন। বা অ্যালেক্সার মতো ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন। যেটি সকাল হলেই আপনাকে ঘুম থেকে তুলে দেবে।
- বিছানায় ফোন না (Digital Detox with no Phone): ফোন কোনো অবস্থাতেই বিছানায় রাখবেন না। পাশের ঘরে ফোন রাখুন। ফোন যদি আফনার হাতের কাছে না থাকে, তাহলে ঘুম থেকে উঠেই হুট করে ফোন ঘাটার অভ্যাসটা বদলাবে।
- স্ক্রিন লিমিট সেট করুন (Digital Detox with screen limit): ফোনের সেটিংসে গিয়ে নির্দিষ্ট সময় (যেমন সকাল ৮টা) পর্যন্ত সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ব্লক করে রাখুন। ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোড অন করে রাখুন।
- নতুন অভ্যাস (Digital Detox with new practice): সকালে ঘুম থেকে উঠেই সোজা হাঁটতে যান। প্রতিবেশিদের সঙ্গে একটু-আধটু কথা বলুন। বাড়ি ফিরে একটু ভালো গান শুনুন। নিজের হাতে কফি বানান।
এই নিয়মগুলো একটু ফলো করতে পারলেই দেখবেন জীবনে পরিবর্তন আসবে। শুরুতে একটু সমস্যা হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে। সকালে ওঠা মানে এই নয় যে আপনাকে ৫টায় উঠতে হবে। সকাল ৮টাতে উঠেও এই কাজগুলো আপনি করতে পারবেন। এবং তাতে কোনো সমস্যা হবে না। বরং জীবনে অনেক বেশি ছন্দ আসবে। ভালো থাকবেন।