আপনি কি ক্রমশ পর্নোগ্রাফিতে (Porn Addiction) আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন? বার বার ভাবছেন এই শেষ, কিন্তু তাতেও হচ্ছে না। একা থাকলেই ওইসব নীল ছবি বা সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করছে। ফলে মানসিক অশান্তি বাড়ছে। সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। সমাধানের পথ বার বার খোঁজার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি ? এই প্রতিবেদনে রয়েছে এই নেশা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়। Power Morning: গ্ল্যামার দুনিয়ার পাওয়ার মর্নিং! 8 নিয়ম মানলে হবে জীবনে ম্যাজিক
পর্নোগ্রাফি বা নীল ছবি দেখার অভ্যাস কিন্তু খারাপ না। বরং এই ধরণের অভ্যাস একটু-আধটু থাকা ভালো। পর্নোগ্রাফি দেখার সময় মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণে ডোপামিন নিঃসরিত হয়। যা আমাদের মনকে ফুরফুরে করে তোলে। কিন্তু সমস্যা হল বার বার দেখার অভ্যাস তৈরি হলে।
কখন বুঝবেন পর্নোগ্রাফিতে আপনি আসক্ত! (Porn Addiction Symptom)
সাধারণত মাসে একবার বা দু-তিন মাসে দু-একবার পর্নোগ্রাফি দেখা যেতে পারে। কিন্তু এর বেশি বা ঘন ঘন দেখার ইচ্ছে তৈরি হলেই মুশকিল। সপ্তাহে ২-৩ বার দেখার অভ্যাস তৈরি হলেই কিন্তু আপনি পুরোপুরিভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আছেন, সময়ের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মনে মনে ভাবলেন মিনিট ১০ ধেকেই বন্ধ করে দেবেন। অথচ সময়ের কাটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। এছাড়াও বারবার দেখার ফলে, আরও নতুন কিছু দেখার প্রবণতা তৈরি হয়। নতুন নতুন কন্টেন্ট খোঁজার চক্করে মন আরও বেশি চঞ্চল হয়ে উঠছে। কিন্তু ঘুরে ফিরে একই জিনিষ মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে ভেসে আসছে। এতে মনের কোথাও একটা না পাওয়ার আকাঙ্খা তৈরি হচ্ছে। এবং সেটা অবশ্যই আপনার অজান্তেই।
পর্নোগ্রাফি আসক্তিতে ক্ষতির সম্ভাবনা (Porn Addiction is Harmful)
- খুব বেশি পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে সময়ের উপর নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়। ফলে ভালো কাজের সময় কমে আসে।
- পর্নোগ্রাফি দেখার নেশার কারণে একা থাকতে ইচ্ছে করে। ফলে সামাজিল মেলামেশা কমতে শুরু করে। পেশাগত কাজ বা লেখাপড়াতে ব্যঘাত ঘটে। কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করে না।
- নীল ছবির আসক্তির সব থেকে খারাপ প্রভাব হল, ব্যাক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়া। পার্টনারের ওপর থেকে ধীরে ধীরে আকর্ষণ কমে আসে। ফলে সম্পর্কের অবনতি হয়। Hair Moisturizer : চুলের ময়েশ্চারাইজার নারকেল তেল, দূর করবে খুশকি
- কোনো কারণে যদি ওইসব ছবি আপনি দেখতে না পারেন, তাহলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। বিরক্ত লাগে। কোনো কাজেই আর মন লাগে না।
- পর্নোগ্রাফি দেখার সঙ্গে সঙ্গে মাস্টারবেশনের অভ্যাসও স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়। ঘনঘন মাস্টারবেশনের ফলে স্পার্ম ক্রমশ পাতলা হয়ে আসে। অনেক সময় ভবিষ্যতে প্রজননের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নেশা থেকে মুক্তির উপায় (Porn Addiction Relief Way)
আপনি পর্নোগ্রাফির আসক্তি থেকে মুক্তি চাইছে। কিন্তু কিছুতেই হচ্ছে না। আসলে আপনার নিত্যদিনের অভ্যাস আপনার এই চ্যালেঞ্জের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে । আপনাকে বেশ কিছু নিয়মের দাস হতে হবে, যা থেকে আপনি সহজেই এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেন। এই যেমন একটু শরীরচর্চা । জিমেও যেতে পারেন অথবা যোগচর্চাও করতে পারেন। তবে সবথেকে ভালো হাঁটতে যাওয়া।
১. ডিজিটাল ব্লক তৈরি করুন –
- পর্ন ব্লকার ইনস্টল করুন: আপনার ফোন এবং ল্যাপটপে ভালো মানের ব্লকার সফটওয়্যার বা ডিএনএস (DNS) ব্যবহার করুন যা অ্যাডাল্ট সাইটগুলো আটকে দেবে। ইচ্ছে করেলও আপনি কোনো পর্নসাইট ওপেন করতে পারবেন না।
- সোশ্যাল মিডিয়া ক্লিনআপ: ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের এমন সব পেজ বা প্রোফাইল আনফলো করুন যা আপনাকে উস্কানি দেয়। এছাড়াও সেটিংসে গিয়েও ফিচারের চেঞ্জ করতে পারেন।
- বাথরুমে ফোন ব্যবহার করবেন না : কোনো অবস্থাতেই বাথরুমে ফোন নিয়ে যাবেন না। তার বদলে খবরের কাগজ নিয়ে ঢুকতে পারেন।
- শোবার আগে ফোনের ব্যবহার কমান : শুধু বাথরুমই না। রাতে শোবার সময়ও ফোন বেশি রাত পর্যন্ত ঘাটবেন না। কোনো বন্ধু বা সোশ্যল মিডিয়ায় চ্যাট করার অভ্যাস কম রাখবেন। উত্তেজনামূলক কোনো আলচনা কখনোই করবেন না।

২. ‘ট্রিগার’ বা উস্কানি চিহ্নিত করুন (Porn Addiction Trigger) –
ট্রিগার হল সেই পরিস্থিতি বা অনুভূতি যা আপনাকে পর্নোগ্রাফি দেখতে বাধ্য করে। এটি হতে পারে কোনো একাকী সময়, কোনো বিশেষ সিনেমা বা এমনকি ক্লান্তি। যখনই মনে এমন ইচ্ছা জাগবে, সাথে সাথে সেই স্থান পরিবর্তন করুন। বাইরে হাঁটতে যান বা পরিচিত কারো সাথে কথা বলুন। মনে রাখবেন, তাড়নাটি সর্বোচ্চ ৫-১০ মিনিট তীব্র থাকে, সেটি পার করতে পারলে আপনি জয়ী।
৩. নতুন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গঠন (Porn Addiction Overcome Good Practice)-
ভালো কিছু পেতে হলে, পুরানো খারাপ অভ্যাস থেকে সবার আগে সরে আসতে হবে।
- শারীরিক ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করলে শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসরিত হয়, যা মানসিক চাপ কমায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
- শখ বা সৃজনশীল কাজ: বই পড়া, বাগান করা, নতুন কোনো ভাষা শেখা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাবার: শারীরিক ক্লান্তি মানুষকে মানসিক দিক থেকে দুর্বল করে দেয়, যা আসক্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই পুষ্টিকর খাবার এবং সময়মতো ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
- ধ্যান করুন: অনেকের ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিক চর্চা বা নিয়মিত প্রার্থনা আসক্তি থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট মন শান্ত করে বসলে চিন্তাভাবনার ওপর কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়া যায়।
৪. পিছু হটলে হতাশ হবেন না-
যদি দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর একবার ভুল করে ফেলেন, তবে মনে করবেন না যে সব শেষ হয়ে গেছে। ‘রিল্যাপ্স’ বা পুনরায় ফিরে যাওয়া এই সংগ্রামের একটি অংশ হতে পারে। নিজেকে অপরাধী ভেবে আবার ডুবে না গিয়ে ভাবুন কোথায় ভুল হয়েছিল এবং নতুন উদ্যমে শুরু করুন।
৫. সময়ের ব্যবধান বাড়ান-
ক্যালেন্ডার তৈরি করুন। এবং সেটা অনুসরণ করুন। প্রথমে সপ্তাহে একবার দেখুন। তারপর ২ সপ্তাহে একবার। তারপর মাসে একবার। এই করে করে প্রথমে ৩ মাসের একটা গ্যাপ তৈরি করুন। তারপর ধীরে ধারে সেটা ৬ মাসের গ্যাপ। এই করে ধীরে ধীরে সময়ের ব্যবধান বাড়ান। এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
এই নিয়মগুলো অনুসরণ করুন। যদি এরপরেও এই সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি না পান, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। মনে রাখবেন, এটিও কিন্তু আর স্বাভাবিক পাঁচটা রোগের মতই একটা রোগ। তাই নিজের মধ্যে আটকে না রেখে প্রয়োজনে পার্টনারের সঙ্গেও এই নিয়ে একটু খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন। তাতে দেখবেন মন অনেকটা হালকা হবে।