কেবলমাত্র চুল নয়, ত্বকের যত্নের জন্য খাঁটি নারকেল তেল সবসময় খুব ভালো উপকরণ। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ নারকেল তেল ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে রান্নার পাশপাশি রূপচর্চাতেও নারকেল তেলের ভাল চল রয়েছে। বাঙালীরা মূলত নারকেল তেল (Hair Moisturizer) শুধুমাত্র চুলের যত্ন নিতেই ব্যবহার করে। কিন্তু ত্বকের যত্ন নিতে এর বাকি গুণগুলো সম্পর্কে সচেতনতা অনেকটাই কম। তাহলে চলুন একবার দেখে নেওয়া যাক, নারকেল তেলের বাকি গুণগুলো। Indigestion Remedy: বদ হজমের সমস্যা মেটাবে পাকা পেঁপে
প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার (Hair Moisturizer coconut oil)
নারকেল তেলের সব থেকে বড় গুণ হল এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ভীষণ ভালো করতে পারে। নারকেল তেলে থাকা প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের একদম ভেতরে প্রবেশ করে, আদ্রতা ধরে রাখতে পারে। এর ফলে, যাদের স্কিন ভীষণভাবে শুষ্ক তাদের কাছে ভীষণই ভালো এই জাদুকরী উপাদনটি। ত্বক বেশি শুষ্ক হলে ভীষণভাবে রুক্ষ হয়ে যায়। নিয়মিত নারকেল তেল ব্যবহার করলে, স্কিন অনেক বেশি মশৃণ এবং নরম হয়। বাজারের দামি ময়েশ্চারাইজার ক্রিম যা করতে পারে না, সাধারণ নারকেল তেল সেই কাজটাই সহজে করে ফেলে।

অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ (Coconut oil as Anti-fungal)
স্কিন ড্রাই হওয়ার ফলে, অনেকেই বিভিন্ন ধরণের সমস্যায় ভুগতে পারেন। এই যেমন চুলকানি, মাঝে মধ্যেই ছোটখাটো ব়্যাশ এগুলো থেকে মুক্তি পেতে নারকেল তেলের ভালো বিকল্প কিছু হয় না। কারণ এই ধরণের তেলে প্রচুর পরিমাণে লরিক অ্যাসিড থাকে। ভালো এবং খাঁটি নারকেল তেলে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি, লরিক অ্যাসিড থাকে। ফলে কোনোরকম ফাঙ্গাস সহজে ত্বকের মধ্যে বংশ বিস্তার করতে পারে না। নারকেলের লরিক অ্যাসিড দ্রুত সেগুলোকে বিনাশ করে ত্বকের বডি গার্ড হিসেবে কাজ করে।
মেকআপ রিমুভার (Hair Moisturizer as Coconut Oil):
কোনরকম রাসায়নিক মেকআপ রিমুভারের জন্যও নারকেল তেল খুব ভালো। যাদের নিয়মিত মেকআপ করতে হয় বা পার্টি মেকআপের পরে, নারকেল তেল দিয়ে পুরো মেকআপ সহজেই তুলে ফেলা যায়। তুলোতে সামান্য তেল নিয়ে মুখে আলত করে বুলিয়ে নিলেই যেকোনো ধরনের মেকআপ সহজেই উঠে যায়। এমনকি ওয়াটারপ্রুফ মেকআপও উঠে যায়। দীর্ঘ সময় মেকআপ থাকার ফলে ত্বকের ক্ষতির সম্ভাবনা কমতে থাকে। তার প্রধাণ কারণই হল, মেকআপের ফলে ত্বকের লোমকূপের মুখ গুলো বন্ধ হয়ে যায়। এবং সেটি যত দীর্ঘ সময় থাকে ততই ত্বক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে না। নারকেল তেল ব্যবহারের ফলে, ত্বকের কোষগুলি দ্রুত পুষ্টি ফিরে পায়। ফলে ত্বক ভালো থাকে।
ফাটা গোড়ালির সুরক্ষা
শীতকালে যাদের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায় তাদের জন্য নারকেল তেল কিন্তু অত্যন্ত ভালো একটি উপদান। প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে ভালো করে পা ধুয়ে নিতে হবে। এরপর পাতি লেবু দিয়ে নারকেল তেল গোড়ালির ফাটা অংশগুলোতে লাগাতে হবে। কম করে ৭ দিন এই নিয়ম মানলেই গোড়ালির ফাটা অংশ ঠিক হয়ে যাবে। যাদের ড্রাই স্কিন মূলত তাদেরই এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। লাড়কেল তেলে স্বাভাবিক ময়েশ্চারাইজার থাকার ফলে গোড়ালি নরম রাখে। ফলে পা ফাটার সম্ভাবনা কম হয়ে আসে।
পায়ের নখ হলুদ হয়ে গেলে
নিয়মিত পায়ের যত্ন না নেওয়ার ফলে অনেক সময় পায়ের নখ হলুদ হয়ে পচা গন্ধ বেরোতে থাকে। এই অবস্থায়, কর্পুরের সঙ্গে নারকেল তেল ভালো করে মিশিয়ে নখের অংশে লাগালে, পচা গন্ধ দূর হয়। নখ আগের মতো ঝকঝকে থাকে।
ফাটা দাগ ও ঠোটের যত্ন
শীতকালে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় ঠোঁট ফেটে যায়। লিপবাম হিসেবে নারকেল তেল ব্যবহার করলে ঠোঁট গোলাপী ও নরম থাকে। রোজ স্নানের পর ঠোঁটে নারকেল তাল মাখলে ঠোঁট নরম থাকে। এর ফলে ঠোঁট ফাটা বন্ধ হয়ে যায। তবে শুধু স্নানের পরেই না। রাতে শোয়ার আগেও নারকেল মাখা ভালো। এছাড়া শরীরের ‘স্ট্রেচ মার্কস’ বা ফাটা দাগ হালকা করতেও নিয়মিত নারকেল তেলের মালিশ অত্যন্ত কার্যকর।
রোদে পোড়া বা সানবার্ন থেকে মুক্তি
দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে ত্বকে যে জ্বালাপোড়া বা কালচে ভাব (Sunburn) তৈরি হয়, তা কমাতে নারকেল তেলের জুড়ি নেই। এটি ত্বকের ওপর একটি পাতলা সুরক্ষা স্তর তৈরি করে এবং প্রদাহ প্রশমিত করে ত্বককে শীতল রাখে। নিয়মিত নারকেল তল ব্যবহারের ফলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রোজ বাড়ি ফিরে ভালো করে মুখ ধুয়ে সামান্য নারকেল তেল লাগিয়ে রাখলে মুখের পোড়া ভাব চলে যায়।