দু’বেলা নিয়মিত দাঁত মেজেও হলুদ ছোপ ছোপ দাগ থেকেই যাচ্ছে। সাদা দাঁতের (Teeth Whitening) হাসির যে মাধুর্য, কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে ! বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের সামনে হাসতেই ইচ্ছে করছে না। তবে অনেকেই আছেন, রীতিমতো পয়সা দিয়েই হাসি কিনছেন। Vegan Snacks: জিভে জল আনা ভেগান স্ন্যাকসের রেসিপি
পকেটের পয়সা খসিয়ে ভালো চিকিৎকের পরামর্শে দাঁত ধবধবে সাদা রাখছেন। কিন্তু তার জন্য অবশ্যই নানান কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে দাঁতের ক্ষয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। এই কারণে বিশেষজ্ঞরা বারবার বলে থাকেন ঘরোয়া কিছু উপায় একটু মেনে চললেই দাঁতের সাদা ভাব ধরে রাখা সম্ভব। এরজন্য প্রচুর টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। তবে এর একটা সমস্যা আছে। বাজারের সাধারণ কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে যেমন চটজলদি দাঁত সাদা রাখা যায়, এক্ষেত্রে একটু বেশি সময় লাগে। কিন্তু একবার যদি রুটিন তৈরি করে ফেলতে পারেন, তাহলে তার ফল হয় সুদূরপ্রসারী।
কীভাবে বাড়িতেই দাঁত সাদা রাখবেন, আসুন এক ঝলকে জেনে নেওয়া যাক। এই বিষয়ে নিচে কয়েকটি নিরাপদ ও সাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হল।
বেকিং সোডার পেস্ট: বেকিং সোডা দাঁতের ওপরের দাগ পরিষ্কার করতে ভালো কাজ দেয়। এটি অনেক সময় হোয়াইটেনিং টুথপেস্টেও ব্যবহার করা হয় । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেন্টিস্টদের একটি সংস্থা, আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (American Dental Association) বা ADA-র গবেষণায়, এটি উল্লেখ রয়েছে। সপ্তাহে দু-তিনবার সকালে দাঁত মাজার সময় ১ চা চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা জল বা সামান্য টুথপেস্ট মিশিয়ে পেস্ট বানান। দাঁতে ১–২ মিনিট হালকা করে ব্রাশ করুন, তারপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। তবে মাথায় রাখবেন, এর ব্যবহার কিন্তু সপ্তাহে ২-৩ দিন বারই ঠিক আছে। এর থেকে বেশি করলে, দাঁতের এনামেল দ্রুত ক্ষয় হতে পারে।
নারকেল তেল দিয়ে অয়েল পুলিং: একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি। নারকেল তেল মুখে নিয়ে কুলি করলে ব্যাকটেরিয়া ও প্লাক কমে এবং দাঁত সামান্য উজ্জ্বল হয়। তবে অবশ্যই এটি করা একটু চাপের। কারণ অনেকেই রয়েছেন, যাদের নাড়কেল তেলের গন্ধ সহ্য হয় না। সেক্ষেত্রে তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি মোটেই মেনে চলা সম্ভব না। তবে যদি একবার এটি সহ্য করতে পারেন, তাহলে এর থেকে ভালো উপায় খুব কমই আছে। কারণ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একেবারে নেই বললেই চলে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন ? (Teeth Whitening Process)
খুব সহজ, এক টেবিল চামচ নারকেল তেল (বাড়িতে তৈরি করতে পারলে আরও ভালো) নিন । সেটি মুখে নিয়ে মিনিট পাঁচেক কুলকুচি করুন। তারপর ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এবং সাধারণত যে পেস্ট ব্যবহার করছেন, তা দিয়েই একবার ব্রাশ করে নিন। এর ফলে দাঁতের খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলো কমে যাবে। দাঁত ঝকঝকে সাদা থাকবে। এটি নিয়োমিত ব্যবহার করতে পারেন। রোজ সময় না হলেও চেষ্টা করুন সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন করার। তবে মনে রাখবেন, নারকেল তেল কখনও ক্ষতি করে না । কিন্তু কোনোভাবেই যেন পেটে না যায়। কারণ যেকোনো কাঁচা তেল পেটে যাওয়াই খারাপ।
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ব্যবহার: হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড একটি প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান। এটি অনেক হোয়াইটেনিং প্রোডাক্টে ব্যবহার করা হয়। এটি রাসায়নিকভাবে দাঁতের দাগ কমায়। একটি ছোট চামচের সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে নিন। ৩০–৬০ সেকেন্ড কুলি করুন। তারপর ফেলে দিয়ে ভালোভাবে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তারপর ব্রাশ করে নিন। একটু ঠান্ডা বা গরম খেলেই যাদের দাঁত শিরশির করে তারা এটি কোনোভাবেই ব্যবহার করবেন না।
ফল ও সবজি খাওয়া: আপেল বা গাজরের মতো ফল-সবজি কাঁচা ভালো করে চিবিয়ে খেলেও দাঁত সাদা রাখতে সাহায্য করে। এগুলো দাঁতের ওপর জমে থাকা ময়লা কিছুটা পরিষ্কার করে । পাশাপাশি লালাগ্রন্থিকে কার্যকর করে তোলো। লালা সবসময়েই সুস্থ দাঁতের ভালো বন্ধু। কারণ, লালা থাকার করাণেই দাঁত নিরাপদে থাকে। সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্লোরিডের মতো রাসায়নিক থাকার কারণে দাঁত খুব ভালো থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো নিরাপদ এবং ভালো অভ্যাস। দাঁত সাদা রাখার এটিই একমাত্র উপায় হতে পারে না। দাঁতের সাদা ভাব ধরে রাখতে খানিকটা সাহায্য করে মাত্র।
দাঁত সাদা রাখার অতিরিক্ত টিপস (Teeth Whitening Tips)
- চা, কফি, রেড ওয়াইন, সোডা এবং তামাকজাত দ্রব্য কম ব্যবহার করুন। এগুলো খাওয়ার পরে জল দিয়ে কুলি করুন।
- নিয়মিত ব্রাশ, ফ্লস এবং জিভ পরিষ্কার রাখুন।
- ADA অনুমোদিত হোয়াইটেনিং টুথপেস্ট ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ভালো ফল পাওয়া যায়।
TBS HerbTrove-এর দেওয়া এই টিপসগুলো নিয়োমিত অনুসরণ করুন। তাহলেই ঝকঝকে থাকবে দাঁত। দেখবেন, কোনোখানেই আর হাসি চেপে রাখতে রাখতে হবে না। বরং, প্রাণ খুলে হাসবেন। আপনার সুন্দর দাঁত অন্যের ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠতে পারে।