ART-005
Papaya Seeds: পাকা পেঁপের বীজ খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে কি? - TBS HerbTrove

Papaya Seeds: পাকা পেঁপের বীজ খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে কি?

বাজার থেকে পেঁপে কিনে আনার পর, কালো বীজগুলো (Papaya Seeds) নিশ্চই সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দেন ? কিন্তু জানেন এই বীজগুলো কিন্তু ভীষণ গুণের। বিশেষ করে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য বা কৃমির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য অত্যন্ত ভালো। এমনকি রোজ সকালে যদি কালো বীজগুলো চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে কখনই আলাদা করে আর ওষুধ খাওযার প্রয়োজন হবে না।

আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, পাকা পেঁপের বীজে কি কি গুণ থাকে ।

A Natural Parasite Assassin

পেঁপের বীজে কার্পেইন নামের একট অ্যান্থেলমিন্টিক যৌগ থাকে, যা অন্ত্রের পরজীবী যেমন টেপওয়ার্ম এবং রাউন্ডওয়ার্মকে নষ্ট করে এবং শরীর থেকে বের করে দেয়। আমাদের মতো দেশ, যেখানে তাপমাত্রা শীতের দেশগুলো থেকে বেশি থাকে সেখানে পেঁপের বীজের গুড়ো খুব ভালো ওষুধ। মাত্র ১ চা-চামচ শুকনো বীজের গুঁড়ো প্রতিদিন খেলে শরীরে পরজীবীগুলো বাসা বাঁধতে পারে না।

Liver Detox on Steroids

অনিয়মিত জীবনযাপন। রাস্তার সস্তার খাবারের পাশাপাশি মদ্যপান। আবার প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধ খাবার ফলেও আমাদের লিভারের অনেক ক্ষতি হয়। পেঁপের বীজের নির্যাস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমের মাত্রা বাড়িয়ে এবং প্রদাহ কমিয়ে কাজ করে। ফলে লিভারের সংক্রমণের মাত্রা অনেকটা কমে যায়।

Kidney Stone Crusher

নিয়োমিত পেঁপের বীজ চিবিযে খেলে, কখনই কিডিনিতে পাথর জমবে না। পাথর আসলে কিছুই না। বাড়তি ক্যালসিয়াম এবং ইউরিক অ্যাসিড অনেক সময় মূত্রের সঙ্গে বেরোতে পারে না। এবং ধীরে ধীরে একটা সময় সেগুলোই জমাট বেঁধে শক্ত পাথরে পরিণত হয়। কিন্তু পেঁপের বীজে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা এই ধরণের পাথর জমার কোনো পরিস্থিতিই তৈরি হতে দেয় না। তার আগেই মূত্রের মাধ্যমে শরীরের বাড়তি ক্যালসিয়াম এবং ইউরিক অ্যাসিড বের করে দেয়।

Papaya Seeds/ TBS HerbTrove

Cancer-Fighting Warrior

গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা পেঁপের বীজ ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। প্রোস্টেট, স্তন, ফুসফুস এবং কোলন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে ধীর করে দেয়। বেনজাইল আইসোথায়োসায়ানেট থাকার কারণেই ক্যান্সারের কোষ দ্রুত বাড়তে পারে না । ব্রকোলি বা স্প্রাউটেও এই ক্ষমতা থাকে। কিন্তু, পেঁপের বীজে বেনজাইল আইসোথায়োসায়ানেট অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।

Blood Pressure Tamer

কালো বীজগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও পেপটাইড থাকায়, রক্তনালীকে সচল হয়। ফলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। গবেষণায দেখা গেছে, মাত্র ৭ দিন খাওয়ার পরেই ব্যাপক হারে উচ্চরক্তচাপ কমে যায়।

Immune System Supercharger

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণের কারণে এই ক্ষুদে বীজগুলোই সারা বছর নানা ধরণের রোগ-জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে শরীরে প্রবেশ করতে দেয় না । নিয়োমিত খাওযার ফলে, শরীরে একটা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এবং ইমিউনিটি পাওয়ার অনেক বেড়ে যায়।

Glowing Skin from the Inside Out

ব্রণ, একজিমা এবং বলিরেখা পেঁপের বীজকে ঘৃণা করে। এগুলো ত্বকের ফুসকুড়ি সৃষ্টিকারী টক্সিন বের করে দেয় এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে আরও মজবুত ও পরিষ্কার করে।

Papaya Seeds/ TBS HerbTrove

Hangover Cure & Alcohol Damage Shield

মদ্যপানের কিছু ঘণ্টা আগে, কযেকটা পাকা পেঁপের বীজ চিবিয়ে খেয়ে জল খেয়ে নিন। পরের দিন সকালে কোনোরকম হ্যাংওভারই থাকবে না । সুন্দর ঘুম হবে। পরের দিন সকালে পুরো ফ্রেস হয়ে যাবেন । কারণ পেঁপের লিভারকে রক্ষা করে এবং অ্যালকোহলের মেটাবলিজম ত্বরান্বিত করে, ফলে নেশা কাটতে বেশি সময় নেয় না।

সবই তো ঠিকই আছে। কিন্তু এই পেঁপের দানাগুলো খাবেন কীভাবে ? আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পাকা পেঁপের বীজ খাওয়ার পদ্ধতি।

তাজা বীজ খেতে গোলমরিচের মতো ঝাল ও সামান্য তেতো লাগে। ছোট থেকে শুরু করুন:
প্রথমে মাত্র ¼ চা চামচ দিয়ে শুরু করুন, ধীরে ধীরে প্রতিদিন পুরো ১ চা চামচ পর্যন্ত বাড়ান।
স্মুদিতে ব্লেন্ড করে ফেলুন (ঝাল-তেতো ভাব পুরোপুরি লুকিয়ে যায়)।
শুকিয়ে গুঁড়ো করে মশলা বানান – সালাদ, অ্যাভোকাডো টোস্ট বা স্যুপে ছড়িয়ে দিন।
মধুর সাথে মিশিয়ে মিষ্টি-ঝাল ট্রিট বানান।

তবে সবসময় চেষ্টা করবেন, গোটা গোটা বীজ না খেয়ে সবসময় বীজগুলো একটু গুঁড়ো করে খাওয়ার। তা না হলে, অনেক সময় বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিরাপত্তা ও ডোজ – যেকোনো জিনিসের অতিরিক্ত খারাপ (Safety & Dosage — Because Too Much of Anything Is Bad)

বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১-২ চা চামচ একদম নিরাপদ।

গর্ভবতী মহিলারা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন (অতিরিক্ত কার্পেইন জরায়ুর সংকোচন বাড়াতে পারে)।
যদি আপনি রক্তচাপ বা রক্ত পাতলাকারী ওষুধ খান, খুব কম থেকে শুরু করুন এবং শরীরের অবস্থা লক্ষ্য করুন – প্রভাব বেশ শক্তিশালী হতে পারে।

Author

  • Ahanjita Mahata

    প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক সুস্থতা (হোলিস্টিক ওয়েলনেস)-এর প্রতি গভীর আগ্রহ-সহ দৃঢ় একাডেমিক ভিত্তিসম্পন্ন একজন যোগ্য পুষ্টিবিদ। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন Midnapore College (Autonomous) থেকে পুষ্টিবিজ্ঞানে বি.এসসি (অনার্স) (প্রথম শ্রেণি) সম্পন্ন করেছেন এবং NSHM Knowledge Campus Durgapur-এর ডিপার্টমেন্ট অব ডায়েটেটিক্স অ্যান্ড নিউট্রিশন থেকে ডায়েটেটিক্স ও নিউট্রিশনে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন সার্টিফায়েড ডায়াবেটিস এডুকেটর।

    থেরাপিউটিক নিউট্রিশন, লাইফস্টাইলজনিত রোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রমাণভিত্তিক খাদ্য নির্দেশনায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সুপরিকল্পিত ও গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ এবং ব্যবহারিক ওয়েলনেস টিপসের মাধ্যমে তিনি পুষ্টি, ভেষজ স্বাস্থ্য এবং সুষম জীবনযাপনকে সহজভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে পাঠকরা স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে চলতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top