পিরিয়ডের (Period Care) সময় আসলেই মনে মনে তৈরি হয় আতঙ্ক। পেট ব্যথায় অবস্থা খারাপ হয়। এছাড়া পা ব্যথা, কোমর ব্যথা নিয়ে অফিস করতে হয় এক্কেবারে নাজেহাল অবস্থা। আজ এই প্রতিবেদনটি হয়ত আপনার অনেক সমস্যার সমাধান করবে এক চুটকিতে! প্রথম হল নিয়মিত শরীরচর্চা। এতে শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। সেকারণে মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে। মহিলাদের পিরিয়ডের সময় শরীর খানিকটা ক্লান্ত থাকে। তবে এই সময় যোগব্যায়াম শরীরে শক্তি প্রদান করে। শুরুটা সব সময় অল্প দিয়েই করা উচিত। প্রথমে ১০-২০ মিনিটের জন্য করুন। ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন শরীরচর্চার। তবে, শুধু মন যে ভালো থাকবে তা নয়। একইসঙ্গে, ব্যথাও কম থাকবে।
পিরিয়ডের সময় শরীরচর্চার তালিকা (Exercise during the period care)
হাঁটাহাঁটি করা (20 minutes walk) : পিরিয়ডের সময় হাঁটার কোন বিকল্প নেই। ধীর ও মন্থর গতিতে হাঁটা যেমন শরীরের পক্ষে উপকারী ঠিক তেমনই তা মেজাজ ভালো রাখতেও সাহায্য করে। পিরিয়ডের সময় খিটখিটে মেজাজ ও বিনা কারণে রাগ হওয়া খুব স্বাভাবিক। এই সময় মহিলাদের ঘন ঘন মুডসুইং হয়। সে ক্ষেত্রে প্রকৃতির মাঝে বেশ কিছুক্ষণের জন্য হাঁটলে মন হালকা হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ গাছপালা, ঠান্ডা হাওয়া, ফুলের মিষ্টি গন্ধ, এসব মনকে শান্ত করে। খুব বেশি না, পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট। তবে কোন অস্বস্তি হলে বা হাঁপিয়ে গেলে জোরে না হাটাই ভালো। Animal Testing: খরগোশ-ইঁদুরের উপর রাসায়নিক পরীক্ষায় কড়া শাস্তি
বালাসন (Balasana) : সঠিক পদ্ধতি মেনে যোগ ব্যায়াম করলে তার কোন বিকল্প নেই। শরীরকে সচল রাখতে এবং মনোযোগ বাড়াতে যোগব্যায়াম অনেক সাহায্য করে। বালাসন স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। ফলে আসনটি মন-মেজাজ ভালো করতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি : হাঁটু ভাঁজ করে গোড়ালির ওপর বসতে হবে। হাত সামনে রেখে, ঝুঁকে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে। ধীরে লম্বা শ্বাস নিয়ে প্রায় ২ মিনিট এই অবস্থায় থাকতে হবে। ২-৩ বার এইভাবে থাকলেই যথেষ্ট।

মার্জারীয়াসন (cat cow pose) : মেরুদন্ড এবং পেটের পেশিকে সচল রাখার জন্য মার্জারীয়াসন খুবই উপকারী। শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রেখে সঠিকভাবে এই ব্যায়ামটি করতে পারলে এটি মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি: হাঁটু এবং হাতের উপর ভর দিয়ে বিড়ালের মত বসতে হবে। নিঃশ্বাস নিতে নিতে কোমর নিচু করতে হবে এবং নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় পিঠ ধনুকের মতো উপরে তুলতে হবে। ৮-১০ বার খুব ধীর গতিতে এটা করতে হবে।

লেগ আপ দ্য ওয়াল (Legs up the wall pose) : বিপরীত করণী একটি অত্যন্ত আরামদায়ক আসন। এই আসনটি উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখে। শরীরের নিচের অংশের জন্য খুবই কার্যকর।
পদ্ধতি : দেওয়ালের সামনে শুয়ে পা দুটো দেওয়ালের উপর সোজাসুজি তুলে দিতে হবে। কোমর দেওয়ালের যথাসম্ভব কাছে রেখে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হবে। ৫ থেকে ১০ মিনিট করতে হবে এই আসনটি।

সাঁতার (30 minutes swimming) : শরীরকে সচল রাখতে এবং প্রত্যেকটি পেশীকে শক্তিশালী করতে সাঁতার বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এর সাথে মন ভালো রাখতেও সাহায্য করে। জলের স্পর্শ, ছন্দময় হাত পা নাড়া এবং জলে ভাসমান অবস্থায় বেশ কিছুটা সময় কাটানো মানসিক শান্তির জন্য উপকারী। ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সাঁতার কাটলে তা শরীর এবং মন দুটোর পক্ষেই ভালো।
পিরিয়ডের সময় শরীরকে খুব বেশি কষ্ট দেওয়া উচিত না। তবে প্রতিদিন নিয়মমাফিক অল্প কিছু সময়ের জন্য এই অভ্যাসগুলো করলে শরীর এবং মন ফুরফুরে থাকবে। এরই সঙ্গে বিশেষভাবে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের। মন শান্ত থাকলে শরীর ভালো থাকবে। সুতরাং নিজের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।