ART-043
Vegan Pancake: বাঙালির পিঠে-পুলির ঐতিহ্যে নতুন 5 সংযোজন - TBS HerbTrove

Vegan Pancake: বাঙালির পিঠে-পুলির ঐতিহ্যে নতুন 5 সংযোজন

প্যানকেক (Vegan Pancake) শব্দটা হয়তো বিদেশি শোনায়। কিন্তু বহুদিন ধরেই প্যানকেকের সঙ্গে বাঙালির একটা আলাদা সম্পর্ক আছে। পাটিসাপটা, চিতই পিঠে, মালপোয়া, দুধপুলি-এসবই তো একেক রকমের প্যানকেক। শুধু নাম আলাদা, রূপ আলাদা। Child Depression: বাচ্চা ডিপ্রেশনে আছে নাকি বুঝবেন কিভাবে ?

এখন সময় বদলেছে। অনেকেই স্বাস্থ্য, পরিবেশ বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে ভেগান জীবনযাপন বেছে নিচ্ছেন। কেউ ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু, কেউ প্রাণিজ উপাদান এড়িয়ে চলতে চান। কিন্তু তার মানে এই নয় যে স্বাদের সঙ্গে আপস করতে হবে। বরং একটু নতুন করে ভাবলেই দেখা যাবে-বাঙালির রান্নাঘরে ভেগান প্যানকেকের জায়গা অনেক আগেই তৈরি ছিল। Mental Health: ‘নেট’ ভাইরাসে আক্রান্ত! হীনমন্যতা আর হতাশা লক্ষণ

ভেগান প্যানকেক আসলে কি? (Vegan Pancake Meaning)

সাধারণত প্যানকেক, ডিম আর দুধ দিয়েই তৈরি করা হয়। কিন্তু ভেগান ডায়েটের জন্য দুধ বা ডিমের ব্যবহার করা যায় না। ফলে, গরুর দুধের বিকল্প হিসেবে ওট মিল্ক, সয়া মিল্ক, আমন্ড মিল্ক-এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে ডিমের পরিবর্ত হিসেবে পাকা কলা, তিসি বীজের গুঁড়ো (ফ্ল্যাক্সসিড), চিয়া সিড, আপেল পিউরি—এগুলো ব্যবহার করা হয়। তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, বড় শহরগুলোর পাশাপাশি আজকাল ছোট শহরেও এগুলো সহজেই পাওয়া যায়।

অনেক পিঠে তৈরিতে কিন্তু দুধ লাগে না। এই যেমন চিতই পিঠে, ভাপা পিঠে, এমনকি অনেক সময় পাটিসাপটার ব্যাটারও কেবল চালের গুঁড়ো আর জল দিয়েই তৈরি হয়। অর্থাৎ, আমরা না জেনেই বহুদিন ধরে ভেগান প্যানকেক খেয়ে আসছি।

বাঙালির traditional প্যানকেক-Style খাবার (Vegan Pancake Food)

  • পাটিসাপটা: শীত এলেই ঘরে ঘরে তৈরি হয় পাটিসাপটা। পাতলা করে ছড়ানো ব্যাটার, ভেতরে নারকেল-খোয়ার পুর, ওপর দিয়ে গুড়ের রস। সাধারণত পাাটিসাপটার ব্যটার তৈরিতে গরুর দুধ ব্যবহার করা হয়। তবে নারকেল দুধ বা শুধু জল দিয়েও চমৎকারভাবে বানানো যায়।
Vegan Pancake @TBSHerbTrove
  • চিতই পিঠে: চালের গুঁড়ো, জল, আর একটু স্বাদমতো লবণ দিয়েই সহজে তৈরি হয়ে যায় এই পিঠে। তবে এই পিঠে খাওয়ার আসল মজা হল, কি দিয়ে খাওয়া হচ্ছে। যারা মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন, তারা গুড় দিয়ে খান। তবে ঝাল টমেটো-ধনেপাতার চাটনি সংযোগে খেলে তার স্বাদ একেবারে অন্যরকম।
  • মালপোয়া: দোল বা পূজোর সময় মালপোয়া ছাড়া যেন আনন্দ অসম্পূর্ণ। নারকেল দুধ বা বাদাম দুধ দিয়েও খুব সুন্দর মালপোয়া তৈরি করা যায়। গুরুর দুধের তৈরি মালপোয়া থেকে কোনোভাবেই এর স্বাদ আলাদা হয় না। বরং, নারকেল দুধ যেহেতু প্রাকৃতিক উপায়ে বেশি মিষ্টি, তাই তার স্বাদও বেশি ভালো হয়। তবে তেলেভাজার পর অবশ্যই সামান্য একটু গুড়ের সিরা ওপরে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই, ছোট থেকে বড় সবার মন জয় করবে ভেগান মালপোয়া।
  • কলার প্যানকেক: পাকা কলা দিয়ে খুব কম সময়ে ভালো এবং সুস্বাদু প্যানকেক তৈরি করা যায়। ৪-৫ টা পাকা কলার সঙ্গে একটু ওটস বা আটা মিক্সিতে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। মিষ্টির স্বাদের জন্য, একটু আঁখি গুড় যোগ করতে হবে। মিশ্রণ ভালো করে তৈরি হয়ে গেলেই, সামান্য সাদা তেলে প্যান কেক তৈরি করে ফেলুন।বাচ্চাদের স্কুলে টিফিন দেওয়ার জন্য খুব ভালো।
  • বাঙালি ছোঁয়ায় পশ্চিমি ভেগান প্যানকেক: আজকাল অনেকেই ইউটিউব দেখে ফ্লাফি আমেরিকান স্টাইল প্যানকেক বানান।তবে সেক্ষেত্রেও বাঙালি-টাচ দেওয়া যেতে পারে। এই যেমন, ম্যাপল সিরাপের বদলে খেজুর গুড় ঢেলে দিলেন। উপরে কুচোনো নারকেল আর কাজুবাদাম ছড়িয়ে দিলেন। অথবা আমের মরশুমে পাকা হিমসাগর কেটে ওপর থেকে সাজালেন। পয়লা বৈশাখের ব্রাঞ্চে বা জন্মদিনের সকালের চমক হিসেবে এগুলো একেবারে পারফেক্ট।

অনেকেই মিষ্টির বদলে নোনতা পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে সুজি বা বেসন দিয়ে পালং-টমেটো-ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে প্যানকেক বানালে সেটা লাঞ্চ বা ইভনিং স্ন্যাক হিসেবেও খাওয়া যায়। আলু সেদ্ধ বা কাঁঠাল দিয়ে নোনতা পুর বানিয়ে ভেতরে ভরাট করলেও জমে যায়।

কিছু সহজ কৌশল (Vegan Pancake Strategy)

১. ব্যাটার খুব বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। এতে শক্ত হয়ে যেতে পারে।
২. সামান্য বেকিং পাউডার দিলে প্যানকেক ফুলে উঠবে।
৩. কম আঁচে ধীরে ধীরে সেঁকুন।
৪. প্যান খুব বেশি গরম হলে বাইরে পুড়ে ভেতর কাঁচা থেকে যেতে পারে।
৫. পরিবেশনের আগে উপরে ফল, বাদাম বা গুড় ছড়িয়ে দিন।

খেয়াল রাখবেন—ভেগান মানে স্বাদ কম নয়, বরং উপকরণে একটু সচেতনতা।

Author

  • Ahanjita Mahata

    প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক সুস্থতা (হোলিস্টিক ওয়েলনেস)-এর প্রতি গভীর আগ্রহ-সহ দৃঢ় একাডেমিক ভিত্তিসম্পন্ন একজন যোগ্য পুষ্টিবিদ। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন Midnapore College (Autonomous) থেকে পুষ্টিবিজ্ঞানে বি.এসসি (অনার্স) (প্রথম শ্রেণি) সম্পন্ন করেছেন এবং NSHM Knowledge Campus Durgapur-এর ডিপার্টমেন্ট অব ডায়েটেটিক্স অ্যান্ড নিউট্রিশন থেকে ডায়েটেটিক্স ও নিউট্রিশনে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন সার্টিফায়েড ডায়াবেটিস এডুকেটর।

    থেরাপিউটিক নিউট্রিশন, লাইফস্টাইলজনিত রোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রমাণভিত্তিক খাদ্য নির্দেশনায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সুপরিকল্পিত ও গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ এবং ব্যবহারিক ওয়েলনেস টিপসের মাধ্যমে তিনি পুষ্টি, ভেষজ স্বাস্থ্য এবং সুষম জীবনযাপনকে সহজভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে পাঠকরা স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে চলতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top