ART-047
PCOD Pregnancy: পিসিওডি রয়েছে? মা হতে কোনো বাধা নেই 4 উপায়ে - TBS HerbTrove

PCOD Pregnancy: পিসিওডি রয়েছে? মা হতে কোনো বাধা নেই 4 উপায়ে

আজকাল PCOD বা Polycystic Ovarian Disease খুবই কমন বিষয়। একটা বড় অংশের মহিলারা এই রোগের আক্রান্ত এবং তা খুব কম বয়স থেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মাত্র পারিবারিক সূত্রে এই রোগ হয় না। ফাস্টফুড খাবার প্রবণতা বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, এগুলোকেই চিকিৎসকেরা প্রাথমিক কারণ হিসেবে বেছে নিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে PCOD থাকলে কি সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা (PCOD Pregnancy) থাকে না? Helencha Shak Benefits: দামে কম, পুষ্টিতে ভরপুর হেলেঞ্চা শাক

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে এমনটা ভাবার কোনো কারণই নেই। একটু নিয়ম মানলে সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব। তবে তার আগে এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এবং অবশ্যই ভেগান ডায়েট বেছে নিলে অনেক দ্রুত এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

PCOD Pregnancy এবং প্রজনন ক্ষমতা: আসল সম্পর্ক কী?

PCOD মূলত একটি হরমোনজনিত সমস্যা। এতে ডিম্বাশয় থেকে অপরিণত বা আংশিক পরিণত ডিম্বাণু নির্গত হয়, যা পরবর্তীকালে ছোট ছোট সিস্টে (Cyst) পরিণত হয়। এর ফলে ডিম্বাশয় তুলনামূলকভাবে বড় হয়ে যায় এবং অধিক পরিমাণে অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) নিঃসরণ করে।
প্রজননের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো অ্যানোভুলেশন (Anovulation) বা সময়মতো ডিম্বাণু স্ফুটন না হওয়া। যেহেতু পিরিয়ড অনিয়মিত হয়, তাই গর্ভধারণের জন্য সঠিক সময় বা ‘ফারটাইল উইন্ডো’ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে একথাও ঠিক PCOD মানেই বন্ধ্যত্ব নয়; এটি কেবল গর্ভধারণের পথটিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।

PCOD-তে মা হন (PCOD Pregnancy Way)

১. সঠিক ডায়েট ও ওজন নিয়ন্ত্রণ

PCOD-এর চিকিৎসায় ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। মুম্বইয়ের বিশিষ্ট চিকিৎক রিশমা ধিলন পাই এক জার্নালে লিখেছেন, শরীরের ওজন মাত্র ৫-১০ শতাংশ কমাতে পারলেই পিরিয়ড সার্কেল একটা নিয়মের মধ্যে চলে আসে। এর ফলে ওভুলেশন বা ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়।

  • লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Low GI) খাবার

এই রোগের প্রধান অন্তরায় হল চিনি, ময়দা এবং প্যাকেটজাত খাবার। সুতরাং এমন কোনো খাবার খাওয়া চলবে না যাতে প্রচুর পরিমাণে চিনি বা ময়দা রয়েছে। এমনকি সাধারণ যে চাল, সেটিও না খাওয়ার জন্য বারবার বারণ করা হয়। সাদা চালের পরিবর্চে ব্রাউন রাইস খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ওটস, চালের বিকল্প হিসেবে ভালো খারাব।

  • ভেগান ডায়েট ফলো করতে হবে

বড় মাছ বা অতিরক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। এর জন্য, বেশি তৈলাক্ত মাছ, খাসি বা গরুর মাংস এদমই খাওয়া চলবে না। দুগ্ধজাত খাবার এবং কিছু বিশেষ মাংসে আইজিএফ-১ নামক গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে। এটি শরীরে পুরুষ হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পিসিওডি-র প্রধান শত্রু। মাছ-মাংস কমালে এই ঝুঁকি অনেকটা কমে।

  • প্রোটিন ও সবজি

প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খেতে হবে। প্রতিদিন ডায়েটে কিছু না কিছু শাক রাখতেই হবে। এছাড়াও দু’রকমের সবজি বাটি ভরে খেতে হবে। সেক্ষেত্রে ভাতের পরিমাণ হবে খুবই কম। এবং অবশ্যই তা, ব্রাউন রাইস। তবে হ্যাঁ, রান্নায় শর্ষের তেলের বা সাদা তেলের ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে সামান্য অলিভ অয়েল বা নারকেল তেলের ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম (PCOD Pregnancy Physical Exercise)

চিকিৎসক জয়া কাঞ্চন এক বক্তব্যে বলেছেন, PCOD রোগীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়। যা গর্ভধারণে বাধা দেয়। যোগব্যায়াম এবং সঠিক ঘুমের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি আনলে প্রজনন ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়।

আসলে নিয়মিত শরীরচর্চা করলে শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে। PCOD আক্রান্ত মহিলাদের শরীরে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না বলেই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা সাঁতার কাটতে পারলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

৩. চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ (PCOD Pregnancy Medical Intervention)

মাইল্ড PCOD থাকলে জীবনযাত্রার সামান্য পরিবর্তন করলেই সমস্যা মিটে যায়। কিন্তু যদি তারপরেও সমস্যা না মেটে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • ওভুলেশন ইন্ডাকশন: কিছু ওষুধের (যেমন- Clomiphene বা Letrozole) মাধ্যমে ডিম্বাশয়কে ডিম্বাণু তৈরিতে সাহায্য করা হয়।
  • মেটফরমিন (Metformin): ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এই ওষুধটি অনেক সময় ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

৪. মানসিক প্রশান্তি

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস হরমোনের ভারসাম্য আরও বিগড়ে দেয়। সন্তান ধারণের চেষ্টা করার সময় দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে মেডিটেশন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা: tbsherbtrove.com প্রতিটি কন্টেন্ট পরামর্শদের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করেই প্রকাশিত করে। এবং এগুলো শুধুমাত্র একজন রোগীকে ভালো থাকার পরামর্শ। এই নিয়মগুলো ফলো করলে একজন ভালো থাকতে পারে। পাশাপাশি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Author

  • Ahanjita Mahata

    প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক সুস্থতা (হোলিস্টিক ওয়েলনেস)-এর প্রতি গভীর আগ্রহ-সহ দৃঢ় একাডেমিক ভিত্তিসম্পন্ন একজন যোগ্য পুষ্টিবিদ। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন Midnapore College (Autonomous) থেকে পুষ্টিবিজ্ঞানে বি.এসসি (অনার্স) (প্রথম শ্রেণি) সম্পন্ন করেছেন এবং NSHM Knowledge Campus Durgapur-এর ডিপার্টমেন্ট অব ডায়েটেটিক্স অ্যান্ড নিউট্রিশন থেকে ডায়েটেটিক্স ও নিউট্রিশনে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন সার্টিফায়েড ডায়াবেটিস এডুকেটর।

    থেরাপিউটিক নিউট্রিশন, লাইফস্টাইলজনিত রোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রমাণভিত্তিক খাদ্য নির্দেশনায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সুপরিকল্পিত ও গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ এবং ব্যবহারিক ওয়েলনেস টিপসের মাধ্যমে তিনি পুষ্টি, ভেষজ স্বাস্থ্য এবং সুষম জীবনযাপনকে সহজভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে পাঠকরা স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে চলতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top