পয়লা বৈশাখ মানেই নতুনের আহ্বান। সঙ্গে বাঙালির ভুঁড়িভোজ। সারাদিন জমিয়ে আড্ডা। দুপুরে কবজি ডুবিয়ে খাওয়া। আর তাই বছরের শুরুতে একটু সুস্বাদু খানা-পিনা না হলে চলে! আজকের প্রতিবেদনে এমন ১০ টি পদ সম্পর্কে জানানো হবে, যা স্বাদে-গন্ধে হার মানাবে মাছ-মাংসকেও (Veg Recipes)।
বাঙালির পছন্দের 10 নিরামিষ পদের তালিকা (10 Veg Recipes)
বাসন্তী পোলাও: বৈশাখি দুপুরে মাটির থালায় বাসন্তী পোলাও মানেই বাঙালির এক আলাদা অনুভূতি। ভালো কোয়ালিটির গোবিন্দভোগ চাল। দানা ঘি, কাজু, কিশমিশ আর কেশরের গন্ধ আলাদা মাত্রা এনে দেয়। Ginger Water: ২ মাস আদা-জল খেলেই কমবে বাতের ব্যথা, কমবে ওজন
রেসিপি- বাসন্তী পোলাওয়ের জন্য প্রথমে জল ঝরানো গোবিন্দভোগ চালে ঘি, হলুদ, আদা বাটা ও গরম মশলা মাখিয়ে এক ঘণ্টা রাখুন। কড়াইতে ঘি দিয়ে কাজু, কিশমিশ ও গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিয়ে চাল কষিয়ে নিন। এবার চালের দ্বিগুণ পরিমাণ গরম জল, নুন ও চিনি দিয়ে ঢাকা দিন। জল শুকিয়ে চাল ঝরঝরে হলে নামিয়ে নিন।

ছানার ডালনা: পয়লা বৈশাখের পাতে নিরামিষের (Veg Recipes) রাজা হলো ছানার ডালনা। নরম তুলতুলে ছানার বড়া ভেজে আদা, জিরে আর গরম মশলার ঘন গ্রেভিতে রান্না করা এই পদটি আভিজাত্যের প্রতীক।
রেসিপি- ছানার ডালনা তৈরি করতে প্রথমে ছানা মেখে গোল করে ভেজে নিন। এবার তেলের ওপর জিরে, তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে ডুমো করে কাটা আলু ভাজুন। এরপর আদা বাটা, টমেটো বাটা, জিরে-ধনে গুঁড়ো ও হলুদ দিয়ে মশলা কষান। তেল ছাড়লে জল ও স্বাদমতো নুন-চিনি দিন। ঝোল ফুটলে ছানার বড়া দিয়ে নামানোর আগে ঘি ও গরম মশলা ছড়িয়ে গরম ভাতে পরিবেশন করুন।
এঁচোড়ের কালিয়া (গাছ পাঁঠা) : বসন্তের শেষে এঁচোড় একদম কচি থাকে। দই, কাজু বাদাম বাটা আর বিশেষ মশলায় তৈরি এঁচোড়ের কালিয়া খেলে অনেকে খাসির মাংসের স্বাদও ভুলে যান।
রেসিপি- ডুমো করে কাটা এঁচোড় ও আলু ভাপিয়ে নিন। কড়াইতে ঘি-তেলে তেজপাতা ও গরম মশলা ফোড়ন দিয়ে আদা-জিরা বাটা, টমেটো কুচি, হলুদ ও লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে কষান। এবার কাজু-পোস্ত বাটা ও ফেটানো টক দই মিশিয়ে নাড়ুন। মশলা থেকে তেল ছাড়লে সবজিগুলো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে জল দিন। সবজি সেদ্ধ ও গ্রেভি ঘন হলে গরম মশলা ও সামান্য চিনি দিয়ে নামিয়ে নিন।
ধোকার ডালনা: ছোলার ডাল বেটে, ভাপিয়ে, বরফির আকারে কেটে লাল লাল ঝোল। বাঙালির সাবেকিয়ানা এই পদের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে। গরম ভাতে এক টুকরো ধোকা আর একটু ঘি—ব্যাস, আর কিছু লাগে না।
ভিজিয়ে রাখা ছোলার ডাল আদা, কাঁচা লঙ্কা ও নুন দিয়ে বেটে নিন। কড়াইতে হিং ও জিরে ফোড়ন দিয়ে ডাল বাটা কষিয়ে একটি থালায় সমান করে ছড়িয়ে ঠান্ডা করে বরফি আকারে কেটে নিন। এই ধোকাগুলি তেলে লাল করে ভেজে তুলে রাখুন। এবার আলু ভেজে আদা, জিরে, ধনে ও লঙ্কা গুঁড়োর মশলায় কষিয়ে ধোকা ও গরম জল দিয়ে ফুটিয়ে ঘি-গরম মশলা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
আলু পোস্ত : বাঙালির চিরকালীন ভালোবাসা। তবে উৎসবের আমেজে এতে সামান্য ঝিঙে বা বিউলির ডালের বড়ি মিশিয়ে দিলে এর স্বাদ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
আলু ডুমো করে কেটে ধুয়ে নিন। পোস্ত দানা কাঁচালঙ্কা দিয়ে মিহি করে বেটে রাখুন। কড়াইতে সরষের তেল গরম করে কালোজিরে ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে আলুগুলো হালকা ভেজে নিন। এবার সামান্য নুন ও জল দিয়ে ঢাকা দিন। আলু সেদ্ধ হলে পোস্ত বাটা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মাখোমাখো হলে ওপর থেকে কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। তৈরি সুস্বাদু আলু পোস্ত।

নারকেল দিয়ে ছোলার ডাল: লুচি হোক বা পোলাও, নারকেল কুচি আর হিংয়ের ফোড়ন দেওয়া ছোলার ডাল ছাড়া বাঙালির উৎসব অসম্পূর্ণ। ডালের ঘন ঘনত্ব আর কামড়ে পড়া নারকেলের টুকরো এক অনন্য অনুভূতি দেয়।
নারকেল দিয়ে ছোলার ডাল তৈরির জন্য প্রথমে ডাল সেদ্ধ করে নিন। কড়াইতে ঘি বা তেলে নারকেল কুচি ভেজে তুলে রাখুন। এবার ওই তেলে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও হিং ফোড়ন দিয়ে আদা বাটা ও জিরে গুঁড়ো কষিয়ে নিন। সেদ্ধ ডাল, লবণ, হলুদ ও চিনি দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে ভাজা নারকেল ও সামান্য গরম মশলা মিশিয়ে নামিয়ে নিলেই তৈরি এই সুস্বাদু পদ।
শুক্তো: ভোজের শুরুটা শুক্তো দিয়েই হওয়া চাই। উচ্ছে, বেগুন, সজনে ডাঁটা, কাঁচকলা আর বড়ি দিয়ে তৈরি এই দুধ-শুক্তো বা মশলা-শুক্তো জিভের রুচি ফেরাতে সেরা।
রেসিপি – সুক্তো তৈরির জন্য করলা, বেগুন, সজনে ডাঁটা, কাঁচকলা, রাঙালু ও পেঁপে লম্বাটে করে কেটে নিন। কড়াইতে বড়ি ও করলা আলাদা করে ভেজে তুলে রাখুন। পাঁচফোড়ন ও রাধুনী ফোড়ন দিয়ে বাকি আনাজ কষিয়ে নিন। আদা ও রাধুনী বাটা দিয়ে সামান্য কষিয়ে জল ও লবণ দিন। আনাজ সেদ্ধ হলে ভাজা করলা, বড়ি ও দুধ মিশিয়ে ঘন হয়ে এলে নামানোর আগে ঘি ও ভাজা মশলা ছড়িয়ে দিন।
কাশ্মীরি আলুর দম: ছোট ছোট নতুন আলু দিয়ে তৈরি এই পদের গ্রেভি হয় বেশ ঘন এবং মশলাদার। কাজু ও চারমগজ বাটা ব্যবহার করায় এর মধ্যে একটা রাজকীয় স্বাদ পাওয়া যায়।
রেসিপি- প্রথমে সেদ্ধ আলুর খোসা ছাড়িয়ে নুন-হলুদ দিয়ে লালচে করে ভেজে তুলে রাখুন। তেলের ওপর মৌরি, হিং ও গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন। এবার ফেটানো টক দইয়ের সঙ্গে আদাবাটা, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো ও শাহী গরম মশলা মিশিয়ে কড়াইতে দিন। মশলা কষে তেল ছাড়লে ভাজা আলু ও কাজু বাটা দিয়ে নাড়ুন। সামান্য জল ও চিনি দিয়ে মাখোমাখো হলে ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। Molecular radiance: প্রসাধন থেকে চিকিৎসা, আণবিক বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় ত্বকের সুরক্ষা
মোচার ঘণ্ট : কলার মোচা ছাড়ানো পরিশ্রমের হলেও এর ফল হয় সুস্বাদু। নারকেল কোরা, ভাজা বড়ি আর ছোট করে কাটা আলু দিয়ে তৈরি মোচার ঘণ্ট বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় একটি স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু পদ।
প্রথমে কুচানো মোচা ও আলু নুন-হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে নিন। কড়াইতে সরষের তেল গরম করে তেজপাতা, জিরে ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে আলু ও আদা-জিরে বাটা দিয়ে কষান। এরপর সেদ্ধ মোচা, নুন, চিনি ও নারকেল কোরা দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। মাখা মাখা হয়ে এলে ঘি ও গরম মশলা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। তৈরি সুস্বাদু মোচার ঘণ্ট।
আম চাটনি ও পাঁপড় ভাজা : শেষপাতে চাটনি ছাড়া বাঙালি ভোজ ভাবাই যায় না। বৈশাখ মানেই কাঁচা আমের সময়। তাই পাঁচফোড়ন ও শুকনো লঙ্কা দিয়ে তৈরি টক-মিষ্টি আমের চাটনি আর মুচমুচে পাঁপড় ভাজা ভোজের সফল সমাপ্তি ঘটায়।
কাঁচা আম ডুমো করে কেটে ভাপিয়ে নিন। কড়াইতে সরষের তেল, পাঁচফোড়ন ও শুকনো লঙ্কা দিয়ে আমগুলো কষান। এবার চিনি বা গুড়, নুন এবং অল্প জল দিয়ে ফোটান। চাটনি ঘন হয়ে এলে ভাজা মশলার গুঁড়ো ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। অন্য পাত্রে ডুবো তেলে বা সেঁকে পাঁপড় ভেজে নিন। টক-মিষ্টি চাটনির সাথে মুচমুচে পাঁপড় ভাজা ভোজের শেষে যোগ করবে এক অনন্য তৃপ্তি।