ত্বকের চুলকানি (Skin Itching) একটি খুব স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু নিয়মিত পরিচর্যা করলে, এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে সবসময় আঙুলের নখ কেটে পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ চিকিৎসকেরা বলছেন, ত্বকের রোগের যাবতীয় উৎসই হল আঙুলের নখ। সামান্য চুলকালেই আমরা, নখ দিয়ে চুলকাই। জেগে থাকার পাশাপাশি, ঘুমনোর সময়ও অজান্তেই চুলকে ফেলি। সেখান থেকেই ত্বকের নানা ধরণের রোগের দেখা দেয়। Neem Juice: নিমপাতার রসেই মিলবে মারণরোগের হাত থেকে মুক্তি
চুলকানি আসলে কি ? (Skin Itching – What is this?)
চুলকানি মূলত আমাদের শরীরের একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যখন ত্বকে কোনো ধুলিকণা, পোকা, অ্যালার্জেন বা রাসায়নিক পদার্থ লাগে, তখন ত্বকের নিচের স্নায়ুপ্রান্তগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে সেখানে কোনো সমস্যা আছে। মস্তিষ্ক তখন আমাদের চুলকাতে বাধ্য করে যাতে আমরা ওই ক্ষতিকারক বস্তুটি সরিয়ে ফেলি।
কিন্তু সমস্যাটি শুরু হয় যখন আমরা নখ ব্যবহার করি। নখ দিয়ে ঘষার ফলে ত্বকের ওপরের স্তরে ঘর্ষণ তৈরি হয়। এই ঘর্ষণ মস্তিষ্কে এক ধরণের ব্যথার সংকেত পাঠায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মস্তিষ্ক তখন চুলকানির অস্বস্তি ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য শরীর থেকে সেরোটোনিন (Serotonin) নামক হরমোন নিঃসরণ করে। সেরোটোনিন সাময়িকভাবে আরাম দেয়, কিন্তু এই হরমোনটিই আবার চুলকানির সংকেত বহনকারী স্নায়ুগুলোকে উত্তেজিত করে তোলে। ফলে কিছুক্ষণ পরই চুলকানি আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তীব্র হয়ে ফিরে আসে।
নখ দিয়ে চুলকানোর ফলে কি ক্ষতি হয় ? (Skin Itching harmful)
ত্বকের সবথেকে উপরের স্তরটিকে বলা হয় এপিডার্মিস। এটি আমাদের ত্বককে বাইরের জীবাণু থেকে রক্ষা করে। বেশি জোরে চুলকানোর ফলে ত্বকের এই স্তরটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ওই অংশ দিয়ে বাইরের জীবাণু সহজে প্রবেশ করে। ত্বকের ক্ষতি হয়।
নখের আঁচড়ে ত্বকের কোষগুলো থেকে হিস্টামিন (Histamine) নামক এক ধরণের রাসায়নিক বের হতে থাকে । এই হিস্টামিনই মূলত লালচে ভাব এবং অতিরিক্ত চুলকানির জন্য দায়ী। নখ যদি বড় থাকে এবং বেশি জোরে চুলকানো হয়, তাহলে micr-tear বা ত্বকে সূক্ষ্ম ফাটল তৈরি হয়। এখান থেকেই, রক্ত বের হতে শুরু করে।
নখ দিয়ে চুলকানোর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো সংক্রমণ। নখের নিচে জমে থাকা ময়লা, ব্যাকটেরিয়া (যেমন Staphylococcus aureus) এবং ছত্রাক চুলকানোর সময় সরাসরি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে। এর ফলে
- একবার ত্বক ফেটে গেলে সেখানে জীবাণু বাসা বাঁধে।
- এর ফলে সাধারণ একটি চুলকানি থেকে পুঁজ হওয়া, ঘা বা দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ (যেমন একজিমা বা সোরাইসিস) তৈরি হতে পারে।
- অনেক সময় বারবার চুলকানোর ফলে ওই স্থানের চামড়া শক্ত এবং কালচে হয়ে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘লাইকেন সিমপ্লেক্স ক্রনিকাস’ বলা হয়।
কেন আমরা নখ দিয়ে চুলকানো বন্ধ করতে পারি না ?
শরীরের কোনো অংশে যদি চুলকানি হয়, আমরা জেনেবুঝেও নখ দিয়ে চুলকানো বন্ধ করতে পারি না। কারণ আমাদের যে সাময়িক আরাম হয়, তা অনেকটা নেশার মতো কাজ করে। সেই নেশা থেকে বেরিয়ে আসা খুব মুস্কিল। এটি আসলে একটি মনস্তাত্ত্বিক এবং স্নায়বিক আসক্তি। শত চেষ্টা করেও আমরা এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না।
নখ দিয়ে না চুলকিয়ে বিকল্প কী করা যেতে পারে ? (Skin Itching Problem Solve without Nail)
- চুলকানি অসহ্য হলে হাতের তালু বা আঙুলের নরম অংশ দিয়ে হালকা করে চেপে ধরুন। এতে স্নায়ু শান্ত হবে। ত্বক ফাটবে না।
- বরফ বা ঠান্ডা জল স্নায়ুগুলোকে অবশ করে দেয়। ফলে তৎক্ষণাৎ চুলকানি কমে যায় এবং হিস্টামিন নির্গত হতে পারে না। চুলকালেই সেখানে বরফ দিয়ে হাল্কা ঘষতে পারেন
- শুষ্ক ত্বকে চুলকানি বেশি হয়। তাই ভালো মানের লোশন বা নারিকেল তেল ব্যবহার করলে ঘর্ষণজনিত চুলকানি কমে।

চুলকানি হলে কী করবেন
- নিমপাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে স্নান করতে পারেন।
- স্নানের পর অ্যালোভেরা জেল ভালো করে যেখানে যেখানে চুলকাচ্ছে সেখানে লাগাতে পারেন।
- নারকেল তেল খুব ভালো ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে, সেক্ষেত্রে রাতে শোয়ার আগে একটু নারকেল তেল লাগিয়ে শুতে পারেন। বিশেষ করে যে অংশগুলোতে লালচে ভাব হয়েছে।
- যদি অ্যালার্জি বা পোকা কামড়ানোর কারণে চুলকানি হয়, তবে বেকিং সোডা দারুণ কাজ করে। সামান্য় জলে বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।
উপসংহার: তবে মনে রাখতে হবে, চুলকানি যদি ২ সপ্তাহের সেভি হয়, তাহলে অবশ্য়ই চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও চুলাকনির সঙ্গে জ্বর বা শরীরের বাকি অংশেও ছড়িয়ে পড়লে তাহলেও অবশ্য়ই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।