বেনিয়ম জীবনযাত্রা। নিয়মিত ফাস্টফুড খাওয়ার প্রবণতা। এমনকি ঠিকমতো ঘুম না হওয়া- এই সবকিছুর খারাপ প্রভাব সবসময়ই থাকে। এর ফলে ভবিষ্যতের জন্য আপনার শরীরে নানান রোগ দেখা দেবে। তবে সবথেকে যেটা খারাপ, তা হল ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসা। বিশেষ করে, যাদের ডায়েবেটিস, ব্লাড প্রেসার বা থাইরয়েডের মত রোগ আছে তাদের নির্দিষ্ট বয়সের আগেই কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভীষণভাবে কমে আসে। তাই আগে থেকে সতর্ক (Immunity Boost) হওয়া খুব প্রয়োজন। এমন কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত, যাতে শরীর সবসময় ভেতর থেকে চনমনে থাকে। BP Control: ঘরোয়া টোটকাতেই নিয়ন্ত্রণে থাক ব্লাড প্রেসার
আসুন এখন এমন কিছু খাবার নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক, যেগুলো নিয়মিত আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি যোগাতে (Immunity Boost) সাহায্য করবে। ফলে ভেতর থেকে আপনি অনেক বেশি স্ট্রং থাকবেন। বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
বেরি ফল : বিভিন্ন ধরনের বেরি, যেমন ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি, গোজি বা আকাই – এসব ছোট ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। এই ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ও পুষ্টি থাকে যা শরীরকে শক্তি জোগায়। এগুলো দই বা স্মুদির সঙ্গে খেতে পারেন। আবার কম চিনি যুক্ত মিষ্টি খাবার হিসেবেও খাওয়া যায়। দুপুরে খাবার পরে যখন ফল খাচ্ছেন, তখন কিছু বেরি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।
শাকসবজি দীর্ঘক্ষণ ভেজান গরম জলে (Immunity Boost Tips For Washing Vegetables)
শাকসবজি : সবুজ শাকসবজির কিন্তু কোনো বিকল্প নেই। শরীরের হজম প্রক্রিয়া ভালো করতে নিয়োমিত শাকসবজি অবশ্যই খাওয়া উচিত। লাঞ্চে নিয়মিত শাক খাওয়ার অভ্যাস করতেই হবে। ছোটবেলা থেকে এই অভ্যাসে সকলের থাকা প্রয়োজন। পালং শাক, কেল বা অন্যান্য সবুজ শাকসবজিতে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিটা ক্যারোটিন থাকে। এগুলো শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি স্বাভাবিক রক্তের চলাচলে সাহায্য করে, ফলে হার্ট ভালো থাকে। এছাড়াও নিয়োমিত শাকসবজি খাওয়ার ফরে, মস্তিষ্ক ভালো থাকে।
বাদাম বা বীজ জাতীয় খাবার : আমন্ড, আখরোট বা সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন বি-৬, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও সেলেনিয়াম থাকে। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে ঠিক রাখার কাজ করে। স্যালাডের সঙ্গে বা হালকা টিফিন হিসেবে খাওয়া যায়।
আদা-রসুন-হলুদ: রসুন, আদা ও হলুদ বহুকাল থেকেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এগুলো রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। তাই রান্নায় এসব মসলা ব্যবহার করতে দুবার ভাববেন না। শীতকাল শুরু হওয়ার সময় রোজ খালি পেটে একটা করে ছোট রসুনের টুকরো জল দিয়ে গিলে খেতে পারেন। তবে এটা শীতকালেই খাওয়ার অভ্যেস রাখলে ভালো হবে। মনে রাখতে হবে রসুন খেলে শরীরের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেড়ে যায়। এছাড়াও ছোট কাঁচা হলুদের টুকরো রোজ খাওয়া যেতে পারে। সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খেলে তার গুণ কিন্তু মারাত্মক।
লেবু খাওয়ার সঠিক সময় (Immunity Boost Tips with Lemon)
লেবু জাতীয় ফল : কমলা, জাম্বুরা, মাল্টা এমনকি পাতি লেবুতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এটি স্বেত রক্তকণিকা বাড়িয়ে শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উপযোগী করে তোলে। তবে খালি পেটে বা সন্ধ্যার পর কখনোই লেবু খাওয়া ঠিক না। সবসময় লাঞ্চের ৩০-৪৫ মিনিট পর লেবু খাওয়া যেতে পারে।
রঙিন সবজি : লাল ক্যাপসিকাম বা গাজরের মতো উজ্জ্বল রঙিন সবজিতে প্রচুর ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন থাকে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চোখ ও ত্বক ভালো রাখার জন্যও কার্যকরী। তবে, যেকোনো সবজি সবসমই ভালো করে গরমজলে ধুয়ে ব্যবহার করা উচিত। কারণ, বর্তমানে সবজি সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক এবং রং ব্যবহার করা হয়। তাই ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভালো করে গরম জলে একটু ডুবিয়ে রাখতে হবে।
টক দই: দই একটি ফারমেন্টেড খাবার যাতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং ভিটামিন ডি থাকে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে দইতে কিন্তু কখনোই চিনি খাবে না। তাহলে দইয়ের গুণ নষ্ট হয়ে যায়। প্রয়োজনে মধু বা ফলের সঙ্গে দই মিশিয়ে খেতে পারেন, ভালো ফল পাবেন।
অলিভ অয়েল : মেডিটেরেনিয়ান খাবারে অলিভ অয়েল খুব জনপ্রিয়। এটি একটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যা হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য বেশ ভালো। এছাড়া এটি শরীরের প্রদেহ কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।