ART-044
Helencha Shak Benefits: দামে কম, পুষ্টিতে ভরপুর হেলেঞ্চা শাক - TBS HerbTrove

Helencha Shak Benefits: দামে কম, পুষ্টিতে ভরপুর হেলেঞ্চা শাক

এমন কিছু জিনিস রয়েছে, যেগুলি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান আজও কম। হেলেঞ্চা শাক (Helencha Shak Benefits) এমনই একটি নাম যার অপর নাম হিঞ্চা, হিঞ্চে বা হিংচা, সংস্কৃতে আবার হিমলোচিকা।

এই শাকটিতে ইংরেজিতে Buffalo Spinach বলা হয় এবং এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Enhydra fluctuans যা Asteraceae পরিবারভুক্ত। এই শাকের প্রচুর গুণ রয়েছে। একটু নিয়ম করে খেলে, শরীরের প্রচুর রোগ সেরে যায়। Yoga Asanas: যোগাসেনেই কমবে হাজার সমস্যা, জেনে নিন উপায়

ভারতের পূর্বাঞ্চল,বাংলাদেশ,শ্রীলঙ্কা,মায়ানমার একই ধরনের জলবায়ু আছে এমন দেশগুলিতে পুকুর বা এই জাতীয় জলাশয়ের অগভীর জলে বা জলাশয়ের ধারে আর্দ্র ভূমিতে জন্মে এই শাক। এই গাছগুলো মূলত জলে ভেসে থাকে। এদের ফুলের রঙ সাদা। কাণ্ডের শীর্ষে গুচ্ছাকারে এর ফুল ফোটে। শীতকালে ফুল ও ফল হয়। Mental Health: ‘নেট’ ভাইরাসে আক্রান্ত! হীনমন্যতা আর হতাশা লক্ষণ

হেলেঞ্চা শাকের উপকারিতা (Helencha Shak Benefits Advantage)

আমাদের আশেপাশে এমন অনেক প্রাকৃতিক উপাদান আছে যেগুলির কার্যকারিতা সম্বন্ধে আমরা ওয়াকিবহাল নই। যেমন ধরা যাক হেলেঞ্চা বা হিঞ্চা শাক। এই শাকের উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছুই অজানা আজও। দেখে নেওয়া হেলেঞ্চা শাক আমাদের কী কী উপকারে লাগে?

এটি কাদা জলে জন্মায়। এর বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। এটি দেখতে কিছুটা মালঞ্চ শাকের মত হলেও এর পাতার কিনারা খাঁজকাটা এবং স্বাদ খানিকটা তেত। এটি শাক ভাজা এবং ঝোল রান্না করে খাওয়া হয়। ডাল মিশিয়ে বড়া বানিয়েও এটি খাওয়া হয়।

হেলেঞ্চা ভেষজ চিকিৎসায় কোষ্ঠকাঠিন্য, হাঁপানি, স্নায়ুরোগ, বাতের ব্যাথা, ঘামাচি, হাত-পা জ্বালা ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মিলেছে গুণ (Helencha Shak Benefits Scientific Research)

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জীবাণু নাশক,ব্যথানাশক, ডায়ারিয়া হ্রাস, স্নায়ু উত্তেজনা প্রশমন ইত্যাদি। আয়ুর্বেদে হেলেঞ্চাকে রক্তশোধক, পিত্তনাশক, ক্ষুধাবর্ধক, ব্যথানাশক, জীবাণুনাশক ও জ্বরনাশক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কবিরাজরা চর্মরোগ নিরাময়ে এই শাক খাওয়ার পরামর্শ দেন। এই শাক নিয়মিত খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে।

কোষ্ঠকাঠিন্য, হাঁপানি, ডায়রিয়া ও স্নায়ুরোগের ভেষজ চিকিৎসায় হেলেঞ্চা ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘ জ্বরভোগের পর হেলেঞ্চা শাক দিয়ে মাছের ঝোল খেলে ক্ষুধা বাড়ে ও মুখে রুচি ফেরে। চর্ম রোগ, ঘামাচি, অরুচিতে, হাত-পায়ে জ্বলায়, ধবল, ব্রঙ্কাইটিস রোগেও হেলেঞ্চা বেশ উপকারী।

হেলেঞ্চা শাকে যথেষ্ট অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় এর ক্যানসার প্রতিরোধী ভূমিকা রয়েছে। মাথার যন্ত্রণায় মাথায় এই শাক বেটে লাগালে যন্ত্রণা কমে। স্নায়ুরোগের ভেষজ চিকিৎসায় হেলেঞ্চা ব্যবহৃত হয়। হেলেঞ্চা শাক নিয়মিত খেলে ব্লাড সুগার কমে।

Helencha Shak Benefits. @TBSHerbTrove

হিঞ্চা শাকের বহু উপকারিতা (Helencha Shak Benefits)

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ: শীত এবং বর্ষাকালে দুইটি রোগ মানুষের খুবই কষ্টদায়ক। গায়ে কাঁটা বা ঘামাচি,প্রথমটি শীতে এবং দ্বিতীয়টি গরমকালে মানুষের জন্য খুবই কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। হেলেঞ্চা শাকের তিন-চার চামচ রস সকালে একবার করে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। এই দুই ধরনের রোগের জন্য হিঞ্চা পাতা সামান্য জল দিয়ে বেটে তার রস সারা শরীরে মাখলে খুব তাড়াতাড়ি উপকার পাওয়া যায়।

বসন্ত রোগের প্রতিষেধক হিসাবে: শরীরে দু’-একটি গুটি দেখা দেওয়া মাত্রই অর্থাৎ রোগের প্রথম অবস্থায় শ্বেতচন্দন গুঁড়ো দেড় থেকে দুই গ্রাম এবং হিঞ্চা শাকের রস আধ কাপ,এ দু’টি ভালোভাবে মিশিয়ে খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

লিভারের সমস্যা মেটাতে: লিভার দুর্বল হলে শরীরে নানা ধরনের রোগ দেখা দেয়। ১০০ গ্রাম হেলেঞ্চা বা হিঞ্চা শাক ছোট করে কেটে,১৫০ মিলিলিটার জলে পরিমাণ মতো নুন মিশিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। জল ফুটে এক কাপ পরিমাণ হলে পাত্রটি আঁচ থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। ঠাণ্ডা হলে ভাত খাবার আগে চার-ছয় ফোঁটা সরষের তেল মিশিয়ে খেলেলিভার সবল হয়।

কোমরের যন্ত্রণা উপশমে: কোমরের ঠিক নীচে ব্যথা বা যন্ত্রণা,পায়ের পেশিতে রাতের দিকে টান ধরে,এসব ক্ষেত্রে তিন চামচ হিঞ্চা শাকের রস,হালকা গরম করে সকালের দিকে খালি পেটে খেলে ভালো হয়ে যায়।

পাঁচড়া ও চুলকানি: শীত ও বর্ষাকালে পাঁচড়া ও চুলকানি রোগ মানুষের খুবই কষ্টদায়ক। হেলেঞ্চা শাকের ৩/৪ চামচ রস সকালে একবার করে কয়েক দিন নিয়মিত খেলে এ রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়।

ঘামাচি ও ফুসকুড়ি: গায়ে কাঁটা বা ঘামাচি, প্রথমটি শীতে এবং দ্বিতীয়টি গরমকালে মানুষের জন্য খুবই কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। উভয় রোগের জন্য হেলেঞ্চা পাতা সামান্য পানি দিয়ে বেটে তার রস সারা শরীরে মাখলে খুব দ্রুতই উপকার পাওয়া যায়।

যকৃৎ দুর্বল হলে: যকৃৎ অর্থাৎ লিভার দুর্বল হলে শরীরে নানা ধরনের রোগ দেয়া দেয়। ১০০ গ্রাম হেলেঞ্চা শাক ছোট ছোট করে কেটে, ১৫০ মিলিলিটার পানিতে পরিমাণ মতো লবণ মিশিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। পানি ফুটে এক কাপ পরিমাণ হলে পাত্রটি আচ থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। ঠাণ্ডা হলে ভাত খাবার আগে ৪/৬ ফোঁটা সরষে তেল মিশিয়ে খেলে যকৃৎ সবল হয়। অবস্থা বুঝে ২ থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়মিত খাওয়া দরকার।

পিত্ত বাড়লে: হেলেঞ্চার পাতা বেটে তার ৩০ মিলিলিটার রস এবং গরু কিংবা ছাগলের দুধ (অবশ্যই গরম করে এবং ঠাণ্ডা অবস্থায়) ৫০মিলিলিটার এ দু’টি একসঙ্গে মিশিয়ে রোজ খেলে শরীরে পিত্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হবে।

রক্ত দূষিত হলে: ২০ মিলিলিটার হেলেঞ্চার শাকের পাতা ও ডাঁটা বাটা রস, এক চামচ চিনির সঙ্গে মিশিয়ে সকালে একবার করে খেলে দূষিত রক্ত পরিষ্কার হয়ে যায়। আবার অনেকের জিহ্বায় মোটা সাদা প্রলেপ পড়ে। ফলে অরুচি হয়। তারা কয়েক দিন হেলেঞ্চার রস গরম করে খান, অরুচি চলে যাবে।

সতর্কতা: গ্রামবাংলায় এই শাক পাওয়া গেলেও কলকাতার মতো শহরে খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে, এলাকার বড় বাজারগুলোতে খোঁজ করলে অবশই পাওয়া যেতে পারে। তবে এই শাক খাওয়ার আগে কিছু নিয়ম মানতেই হবে। কাচা না খেয়ে বরং রান্না করে খাওয়াই ভালো। রান্না করার আগে, একটু উষ্ণ গরম জলে মাসান্য নুন ফেলে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরফলে, তাতে থাকা ধুলোবালি যেমন চলে যাবে, পাশাপাশি ছোটছোট পোকাও মরে যাবে।

Author

  • Subhranil Mahata

    B.Sc (Hons.) and M.Sc in Zoology (Immune-Parasitology) from Visva-Bharati University, Shantiniketan. Independent Researcher with a strong foundation in biological sciences and interdisciplinary subjects. Recipient of the prestigious INSPIRE Scholarship for Higher Education awarded by the Department of Science and Technology, Ministry of Science and Technology, Government of India. Engaged in research-oriented analysis of Indian Economy, Environment & Ecology, Social Justice, and Ethics in governance with academic rigor and integrity.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top