সকালের ব্রেকফাস্ট হোক বা রাতে শোয়ার আগে একটু হেলথ ড্রিংকস। অনেকেই আছেন, একটু দুধ (Vegan Milk) না হলে চলে না। জেনে ভালো লাগবে, ভেগান ডায়েট ফলো করলেও কখনো দুধ থেকে বঞ্চিত হতে হবে না। এই প্রতিবেদনে আপনাদের বেশ কয়েকটি দুধের সন্ধান দেওয়া হবে, যার দাম খুব একটা বেশি নয়। এবং এর গুণও কিন্তু সাংঘাতিক। Molecular radiance: প্রসাধন থেকে চিকিৎসা, আণবিক বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় ত্বকের সুরক্ষা
আমন্ড মিল্ক (Vegan Milk –Almond Milk)
স্বাদে এবং স্বাস্থ্যে অতুলনীয় হল আমন্ড মিল্ক বা বাদাম দুধ। আমাদের দেশে বিভিন্ন সংস্থা এই ধরনের দুধ তৈরি করে। যেহেতু বাদাম সবসময় স্বাস্থের জন্য খুব ভালো তাই আমন্ড মিল্কের চাহিদা ভালোই রয়েছে। নিকটবর্তী কোনো স্টোর বা অনলাইনে যে কোনো সংস্থার আমন্ড মিল্ক কেনা যেতেই পারে। Power Morning: গ্ল্যামার দুনিয়ার পাওয়ার মর্নিং! 8 নিয়ম মানলে হবে জীবনে ম্যাজিক
Epigamia ব্র্যান্ডের দুধের চাহিদা সব থেকে বেশি। এপিগামিয়া তাদের দুধে উচ্চমানের ক্যালিফোর্নিয়ান বাদাম ব্যবহার করে। এতে বাদামের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ যেমন ভিটামিন এবং মিনারেলস বজায় থাকে। সাধারণত ভেগান দুধে ক্যালসিয়াম কম থাকার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এপিগামিয়া আলাদা করে দুধে ভিটামিন ভিটামিন A, D এবং ক্যালসিয়াম যোগ করে। এর ফলে এটি হাড় মজবুত করতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গরুর দুধের মতোই কার্যকর হয়।

একইসঙ্গে এই দুধে বাড়তি চিনি থাকে না, তাই যারা ওজন কম করার কথা ভাবছেন বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাঁদের জন্য এই দুধ অত্যন্ত ভালো।
প্রতি লিটার দুধের দাম ২৯০-৩৯০ টাকা পর্যন্ত হয়। চকোলেট বা ভেনিলা সহ বিভিন্ন ফ্লেভারের পাওয়া যায়।
ওট মিল্ক (Vegan Milk– Oat Milk)
ওট দুধ কফি বা চা এমনকি স্মুদির জন্য খুবই ভালো। তবে মুম্বইয়ের স্টার্টআপ ওটমিল্ক (OatMlk), কফি প্রেমীদের মনে যায়গা করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, মাত্র কয়েক বছরে এই ব্র্যান্ডের দুদের চাহিদা ভীষণভাবে বেড়েছে।
যাদের দুধ খেলে হজমের সমস্যা হয় (Lactose Intolerant) বা যাদের সয়া (Soy) অ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য এই দুধ অত্যন্ত ভালো। সহজেই হজম হয়, কোনো সমস্যা তৈরি করে না।
এটি খেতে একটু মিষ্টি লাগে। অনেকেই মনে করেন এতে হয়তো বাড়তি মিষ্টি বা সুগার য়োগ করা হয়। এই ধারণা একদনই ভুল। ওটস থেকে দুধ তৈরি করার সময় সেখান থেকেই একটু হালকা মিষ্টিভাব তৈরি হয়। সেই কারণেই এই দুধ খেলে একটু মিষ্টি লাগে।

ওটস সবসময়ই শরীরের পুষ্টি যোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে এসেছে। ওটমিল্ক-এ প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। একই সঙ্গে তুলনামূক একটু ভারী হওয়ায় এই দুধ খেলে অনেক্ষণ পেট ভরা থাকে।
প্রতি লিটার দুধের দাম ২৯০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই বা বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলোর পাশাপাশি, অনলাইনে এই দুধ পাওয়া যায়। এছাড়াও রিলায়েন্স বা স্পেন্সারের মতো স্টোরগুলোতেও পাওয়া যায়।
নারকেল দুধ (Vegan Milk – Coconut Milk)
অনকেই আছেন যারা নারকেল দুধ খুব পছন্দ করেন। নারকেল দুধ থেকে কিন্তু দইও ভালো তৈরি হয়। তবে নারকেল থেকে তৈরি দুধের সবথেকে বড় গুণ হল, যাদের দুধ খেলে হজমের সমস্যা হয় (Lactose Intolerant) তাদের জন্য অত্যন্ত ভালো। নারকেল থেকে তৈরি দুধ খেলে এই ধরনের সমস্যা কখনোই হয় না।
Raw Pressery ব্র্যান্ডের তৈরি নারকেল দুধ আমাদের দেশে খুব জনপ্রিয়। ২-৩ রকমের ফ্লেভারের এই দুধ পাওয়া যায়। কফি প্রেমিদের কাছে, এই সংস্থার কফি ফ্লেবারের দুধটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়াও চকোলেট ফ্লেভারের দুধ বাচ্চাদের খুব পছন্দের। এই দুই ফ্লেভার ছাড়া, আরও এক ধরণের দুধ পাওয়া যায়। তবে সেটিতে কোনো বাড়তি স্বাদ নেই। পুরোপুরি সেটি খাঁটি নারকেল দুধ।

এই দুধে ‘মিডিয়াম চেইন ট্রাইগ্লিসারাইডস’ (MCT) থাকে, যা সরাসরি লিভারে গিয়ে শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ভিটামিন ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং ভেতর থেকে আর্দ্রতা বজায় রাখে। পাশাপাশি, টি শরীরের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে। হার্টের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
প্রতি লিটার দুধের দাম ২৫০-৩২০ টাকার মধ্যে হয়। অনলাইনের পাশাপাশি লোকাল কোনো স্টোরে এই ব্র্যান্ডের দুধ গুলো পাওয়া যায়।