ART-024
Hibiscus Tea: জবা ফুলের চা নিয়ন্ত্রণ রাখবে সুগার, কমবে ওজন - TBS HerbTrove

Hibiscus Tea: জবা ফুলের চা নিয়ন্ত্রণ রাখবে সুগার, কমবে ওজন

জবা ফুল শুধু পুজোতেই না। আপনার শরীর চনমনে রাখতে জবা ফুলের গুণ সাংঘাতিক। সেই কারণে সারা বিশ্বে এখন এই চা-এর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। অনেক জায়গায় হিবিসকাস টি, “রেড টি” বা লাল চা (Hibiscus Tea) নামে পরিচিত। আফ্রিকার বহু অঞ্চলে শতকের পর শতক ধরে এটি ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই চায়ের রং, টকটকে লাল হয়। স্বাদে এবং গুণে এর কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। জবা ফুলের চা শুধুমাত্র সুগার বা ওজন কমায় না, এটি উচ্চ রক্তচাপ (Blood Pressure) নিয়ন্ত্রণেও বেশ কার্যকরী। তবে গর্ভাবস্থায় বা কোনো বিশেষ ওষুধ চললে এটি খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক, এই চায়ের বিশেষ গুণগুলির কথা।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর (Hibiscus Tea, A Powerhouse of Antioxidants)

আমাদের শরীরের কোষের ক্ষতি রোধ করতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুব জরুরি। জবা ফুলের শুকনো পাপড়ি থেকে তৈরি চায়ের গভীর লাল রঙে থাকে অ্যান্থোসায়ানিন, যা দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখে। Vegan Celebrities: বলিউডের ১০ সেলেব, ছেড়েছেন মাছ-মাংস

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ (Hibiscus Tea, Natural Management of Blood Pressure)

হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য এই চা দারুণ কার্যকরী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এই চা খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে। এটি প্রাকৃতিকভাবে শরীরের বাড়তি সোডিয়াম বের করে দিতে এবং রক্তনালীকে শিথিল করতে সাহায্য করে।তবে একটা কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, প্রেসারের ওষুধ খাওয়া ব্যক্তিদের এই চা খাওয়ার আগে, একবার চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

হৃদরোগ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ (Hibiscus Tea, Improving Heart Health and Cholesterol)

এই ধরনের রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে এটি ‘ভালো’ কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে ভূমিকা রাখে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

ওজন কমাতে ও বিপাক প্রক্রিয়ায় (Hibiscus Tea, Weight Management and Metabolic Health)

যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। এই চা শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট শোষণের হার কমিয়ে দেয়। ফলে শরীরে চর্বি জমার সুযোগ কম থাকে। ফলে অযথা বাড়তি ওজনের সম্ভাবনা কমে যায়। মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কম হয়।

লিভারের সুরক্ষা (Hibiscus Tea, Liver Support)

আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করতে লিভার কাজ করে। জবা ফুলের শুকনো পাপড়ি থেকে তৈরি চা লিভারকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে । ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ বাড়ে (Hibiscus Tea, Immune System Boost)

জবা চায়ে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং আয়রন থাকে। এটি সাধারণ সর্দি-কাশি এবং ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

হজমশক্তি বাড়ায় শরীরে জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখে (Hibiscus Tea, Digestive Aid and Hydration)

এটি একটি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে যা শরীরের অতিরিক্ত জল বের করে দেয় এবং পেট ফাঁপা কমায়। যেহেতু এতে ক্যাফেইন নেই, তাই এটি সারাদিন শরীরকে হাইড্রেটেড বা সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

রেসিপি (Hibiscus Tea recipe)

উপকরণ: ৩-৪টি লাল জবা ফুলের পাপড়ি, দেড় কাপ জল, স্বাদমতো মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস
প্রণালী: জবা ফুলের পাপড়ি জলে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি পাত্রে দেড় কাপ জল নিয়ে ফুটিয়ে নিন। জল ফুটে উঠলে এর মধ্যে জবা ফুলের পাপড়ি দিয়ে দিন।

প্রায় ৫ মিনিট মতো হালকা আঁচে রাখুন বা গরম জল ফেলে ঢেকে রাখুন। ফুলের পাপড়ি রঙ ছাড়বে। জলটি গাঢ় লাল বা ম্যাজেন্টা রঙের হয়ে উঠলে একটি কাপে ছেঁকে নিন। এই চায়ের স্বাদ টক হবে। তবে চাইলে এতে মধু এবং গন্ধের জন্য লেবুর রস মেশাতে পারেন।

সতর্কতা (Hibiscus Tea Usage)

গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী মহিলাদের এই চা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এটি হরমোনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

অ্যাসিডিটি: অতিরিক্ত টক হওয়ায় যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তারা পরিমিত পরিমাণে পান করুন।

ওষুধের সাথে বিক্রিয়া: ডায়াবেটিস বা রক্তচাপের ওষুধের সাথে এটি বিক্রিয়া করতে পারে।

উপসংহার

জবা চা শুধু একটি পানীয় নয়, এটি পুষ্টির ভাণ্ডার। আপনি ওজন কমাতে চান বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান—এক কাপ লাল জবা চা আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করা একটি দারুণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

Author

  • Ahanjita Mahata

    প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক সুস্থতা (হোলিস্টিক ওয়েলনেস)-এর প্রতি গভীর আগ্রহ-সহ দৃঢ় একাডেমিক ভিত্তিসম্পন্ন একজন যোগ্য পুষ্টিবিদ। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন Midnapore College (Autonomous) থেকে পুষ্টিবিজ্ঞানে বি.এসসি (অনার্স) (প্রথম শ্রেণি) সম্পন্ন করেছেন এবং NSHM Knowledge Campus Durgapur-এর ডিপার্টমেন্ট অব ডায়েটেটিক্স অ্যান্ড নিউট্রিশন থেকে ডায়েটেটিক্স ও নিউট্রিশনে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন সার্টিফায়েড ডায়াবেটিস এডুকেটর।

    থেরাপিউটিক নিউট্রিশন, লাইফস্টাইলজনিত রোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রমাণভিত্তিক খাদ্য নির্দেশনায় তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সুপরিকল্পিত ও গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ এবং ব্যবহারিক ওয়েলনেস টিপসের মাধ্যমে তিনি পুষ্টি, ভেষজ স্বাস্থ্য এবং সুষম জীবনযাপনকে সহজভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে পাঠকরা স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে চলতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top