আবহাওয়া দ্রুত বদলাচ্ছে। তেমনভাবে ঠান্ডা না থাকলেও সকাল-বিকেলে একটা শীতের আমেজ কিন্তু আছেই। আর চিকিৎসকেরা বলেন, শরীর খারাপের জন্য় এই আবহাওয়া একদম আদর্শ। আর যাদের একটু ঠান্ডা লাগার ধাঁচ আছে তাদের কথা তো ছেড়েই দিন। সর্দি-কাশি থেকে সহজে নিস্তার পেতে গুড় ও শুকনো আদা (Winter Immunity Booster) জাদুর মত কাজ করে। Wine Health Benefits: রেড ওয়াইন কমাবে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা
তাপমাত্রা সামান্য কম-বেশি হলেই সর্দি. কাশি গলা ব্য়াথার মতো উপসর্গ শুরু হয়ে যায়। আর তখনই অ্যান্টিবায়োটিকের পিছনে বহু টাকা খরচ হয়। কিন্তু আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ঘরোয়া উপকরণের মাধ্যমে এই সমস্যা নিরাময় করার বহু উপায় আছে। গুড় ও আদার এই জাদুকরী জুটিকে আয়ুর্বেদে “প্রাকৃতিক পেইনকিলার” ও “ইমিউনিটি বুস্টার” বলা হয়। Diabetes: ডায়াবেটিস-ওবেসিটি বাধা বাচ্চাদের কেরিয়ার তৈরিতে
আয়ুর্বেদে সর্দি কাশি প্রতিরোধে গুড় ও আদার উপকারিতা সম্বন্ধে বিশেষভাবে উল্লেখ করা রয়েছে। এই দুই উপকরণের মেলবন্ধনে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কফ ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে এবং তা খুব সহজেই বেরিয়ে যায়। একইসঙ্গে পুরনো বাতের ব্য়থা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। ফলে শরীর চনমনে থাকে।
গুড়ের গুরুত্ব (Winter Immunity Booster with Jaggery)
গুড় শ্বাসনালী শ্লেষামুক্ত রাখে এবং এতে উপস্থিত আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে শীতের হিমেল আবহাওয়ার সাথে লড়াই করার শক্তি দেয়।
আদার গুরুত্ব (Winter Immunity Booster with Ginger)
শুকনো আদায় উপস্থিত জিনজারাল নামক উপাদান অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণে পরিপূর্ণ। শরীরের প্রদাহ কমিয়ে সংক্রমণের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
৩ কার্যকর ব্যবহারিক উপায়
শুষ্ক কাশির জন্য: আদা ও কোরানো গুড়ের সাথে সামান্য ঘি ও গোলমরিচ গুরো মিশিয়ে তার ছোট ছোট বড়ি বানিয়ে নিতে হবে। ২-৩ টে বড়ি প্রতিদিন চুষে খেলে তা সর্দি, কাশি, গলা ব্যথার থেকে মুক্তি দেবে।
জমে থাকা কফের জন্য: একটি ছোট টুকরো গুড় এবং আধা চামচ শুকনো আদার গুঁড়ো জলে দিয়ে তা অনেকক্ষণ ধরে ফোটাতে হবে যতক্ষণ না সেটি একটি ঘন মিশ্রণে পরিবর্তিত হচ্ছে।
কীভাবে খাবেন: এই পানীয়টি রাত্রে ঘুমোনোর আগে ইসদউষ্ণ অবস্থায় পান করলে তা জমে থাকা কফের থেকে মুক্তি দেবে এবং সর্দি কাশি কমাতে সাহায্য করবে।
সতর্কতা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞদের মতে গুড় এবং শুকনো আদা খাওয়ার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।যে সকল মানুষ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যায় আক্রান্ত তাদের গুড় এবং আদা দুটি একসঙ্গে সেবন করা অত্যন্ত ক্ষতিকারক কারণ উভয়ই শারীরিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে যার ফলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
অর্গ্যানিক গুড় ব্যবহার করা উচিত। আজকাল বহু কেমিক্যাল ব্যবহার করে গুড় পরিষ্কার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।
ঠান্ডা লাগা এবং আরো বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য গুড় এবং আদার এই দুটি বহু পুরনো। এটি অনেক সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে। সাধারণ জ্বরে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খেয়ে শরীরকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত না করে প্রাকৃতিক ওষুধের উপর নির্ভর করে সেই সকল রোগ নিরাময় করতে পারলে শরীরের ইমিউনিটি বারবে এবং শারীরিক সুস্থতার বৃদ্ধি ঘটাবে।