নিম পাতাকে আয়ুর্বেদে ‘সর্ব রোগ নিবারণী’ বলা হয়। সপ্তাহে অন্তত একবার নিমপাতার রস (Neem Juice) খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ভালো। তবে হ্যাঁ অবশ্যই খালি পেটে খেতে হবে। অনেকে আবার ছোট ছোট আইস কিউব বানিয়ে রেখে দেন ফ্রিজে। যখন ইচ্ছে হয় তখন একটা কিউব জলের মধ্যে মিশিয়ে খেয়ে নেন। তবে, নিমপাতা বেটে সেই রস খাওয়া বেশি ভালো। Ginger Mint: পেটের সমস্যা সমাধানে আদা ও পুদিনার 4 রেসিপি
এবার এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক, প্রতি সপ্তাহে একবার করে নিমপাতার রস খেলে কি কি উপকার পাওয়া যাবে।
নিম পাতার রসে উপকার (Neem Juice Advantage)
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় (Neem Juice – Immunity Booster)
নিমপাতা সবসময়অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদানে ভরপুর। প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে নিমপাতা খাওয়ার ফলে, শরীর ভেতর থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। রোগ সর্দি-কাশি বা কোনোরকম ইনফেকশন থেকে শরীরকে রক্ষা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
বাজে কৃমির দমন (Neem Juice – intestinal worms killer)
ছোটদের জন্য নিমপাতা ভীষণভাবে ভালো এক ঔষধ। প্রতি সপ্তাহে বাড়র ছোট বাচ্চাকে নিমপাতার রস খাওয়ানো হয়, তাহলে শরীরে ক্ষতিকারক কৃমি বাসা বাঁধতে পারে না। কৃমি দমনে অত্যন্ত ভালো কাজ করে নিমপাতা।
রক্ত পরিষ্কার করে (Neem Juice – Blood Purifier)
নিয়মিত নিমপাতা খেলে, শরীরের রক্ত পরিষ্কার থাকে। শরীর থেকে টক্সিন এবং বিষাক্ত উপাদানগুলি বের করে দেয়। ফলে রক্তের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকে। এবং শরীর ভেতর থেকে অনেক বেশি সতেজ থাকে। একইসঙ্গে ব্রণ, ফুসকুড়ি এবং ত্বকের অন্যান্য অ্যালার্জি কমে যায় এবং ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

হজমশক্তি বাড়ায় (Neem Juice – Digestive Power Increase)
নিমপাতার আরও একটা ভালো গুণ হল, হজমে সাহায্য করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাদের জন্য নিয়মিত নিমপাতার রস খুব ভালো।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে (Neem Juice – Diabetes Control)
যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের জন্য নিমপাতার রস খুব ভালো। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। একইসঙ্গে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে কাজ করে। যাদের হাই-সুগার আছে, তাঁরা সপ্তাহে ২-৩ দিন অন্তত নিমপাতার রস খেতে পারেন।
কীভাবে খাবেন (Neem Juice Making Process)
- খুব ভালো হয়, যদি সকালে উঠে খালি পেটেই ৩-৪টে কচি নিমপাতা চিবিয়ে খেয়ে নেওয়া যায়।
- না হলে, গরম জলে ভালো করে নিমপাতা এবং সামান্য একটু গোলমরিচ ফুটিয়ে, ঠান্ডা করে সেই জল খাওয়া যেতে পারে।
- নিমপাতা ভালো করে বেটে, ছোট ছোট বরি বানিয়ে রোদে শুকিয়েও সকালে গিলে খেতে পারেন। সেটাও ভালো উপকার দেয়।
- সামান্য সাদা তেলে নিমপাতা একটু ভেজে, গরম ভাতেও সেটা খাওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা
- নিমপাতা খাওয়া নিঃসন্দেহে খুব ভালো। কিন্তু, রোজ খাওয়া কখনোই ভালো না। এমনকি যাদের ডায়াবেটিস রয়ছে তাঁদের জন্যও না। খুব বেশি হলে সপ্তাহে ২-৩ দিন।
- এছাড়াও, কিডনি বা লিভারে যদি কারও সমস্যা থাকে, তাদেরও নিমপাতার রস খাওয়া থেকে একটু সতর্ক থাকা উচিত।
- গর্ভবতি মহিলাদের নিমপাতার খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি ডাক্তার খেতে বলেন তাহলে আলাদা কথা।