তলপেটে এবং ঊরুতে মেদ জমছে। সকল মহিলার ক্ষেত্রেই অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। শারীরিক সৌন্দর্যে বাধা তৈরি করছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মহিলাদের নিম্নাংশে মেদ (Belly Fat) নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও সমান জরুরি। অলস জীবনযাপন আর ফাস্টফুড খাওয়ার প্রবণতা। তলপেট ও ঊরুতে মেদ জমার অন্যতম কারণ। তবে, নিয়মিত যোগাসন করলে এই মেদ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়ম এবং নিষ্ঠার সঙ্গে যোগাসন শরীরের নির্দিষ্ট অংশে ফ্যাটবার্ন সম্ভব। Hair Moisturizer : চুলের ময়েশ্চারাইজার নারকেল তেল, দূর করবে খুশকি
স্ট্রেচিং আর যোগাসনে মেদ কমান (Belly Fat Burn with Stretching and Yoga)
সূর্য নমস্কার
রোজ সকালে খালি পেটে সূর্য নমস্কার করার জন্য আদর্শ একটি সময়। বলা হয়, এই আসনের ফলে একসঙ্গে ১২টা যোগাসনের ফল হাতেনাতে পাওয়া যায়। তবে চেষ্টা করবেন, সূর্য নমষ্কার সকালে পূর্ব দিকে তাকিয়ে করাটাই নিয়ম।
ম্যাটের সামনের দিকে দুই পা জোড় করে সোজা হয়ে দাঁড়ান। দুই হাত বুকের কাছে এনে নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখুন। শরীর শিথিল রাখুন এবং দৃষ্টি সামনের দিকে স্থির করুন। শ্বাস নিতে নিতে দুই হাত কানের পাশ দিয়ে মাথার ওপর তুলুন। শরীরকে কোমর থেকে সামান্য পেছনের দিকে হেলিয়ে রাখুন। খেয়াল রাখবেন যেন হাত এবং ঘাড় একসাথে পেছনের দিকে যায়। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে সামনের দিকে ঝুঁকুন।
হাঁটু না ভেঙে দুই হাতের তালু পায়ের দুই পাশে মাটির ওপর রাখার চেষ্টা করুন এবং কপাল হাঁটুতে ঠেকানোর চেষ্টা করুন। শ্বাস নিতে নিতে ডান পা যতটা সম্ভব পেছনের দিকে নিয়ে যান এবং ডান হাঁটু মাটিতে রাখুন। বাম পা দুই হাতের তালুর মাঝে থাকবে। এবার ঘাড় পেছনের দিকে হেলিয়ে আকাশের দিকে তাকান। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে বাম পা-ও পেছনের দিকে নিয়ে যান। শরীরকে মাঝখান থেকে ওপরের দিকে তুলুন যাতে এটি একটি ত্রিভুজ বা পর্বতের মতো দেখায়। গোড়ালি মাটিতে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করুন এবং দৃষ্টি রাখুন নাভির দিকে।
শ্বাস ধরে রাখা অবস্থায় (বা স্বাভাবিক শ্বাস) হাঁটু, বুক এবং চিবুক মাটিতে ঠেকান। শরীরের আটটি অঙ্গ (দুই পা, দুই হাঁটু, দুই হাত, বুক ও চিবুক) মাটি স্পর্শ করবে, কিন্তু পেট মাটি থেকে সামান্য ওপরে থাকবে। শ্বাস নিতে নিতে শরীরের সামনের অংশ (কোমর পর্যন্ত) ওপরের দিকে তুলুন। কনুই সামান্য ভাঁজ থাকতে পারে বা সোজা রাখতে পারেন। ঘাড় পেছনের দিকে হেলিয়ে ছাদের দিকে তাকান।
শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পুনরায় নিতম্ব ওপরের দিকে তুলুন এবং পর্বতের মতো ভঙ্গি তৈরি করুন। এশ্বাস নিতে নিতে এবার ডান পা দুই হাতের মাঝে সামনে নিয়ে আসুন। বাম হাঁটু মাটিতে থাকবে এবং দৃষ্টি ওপরের দিকে থাকবে। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পেছনের পা-ও সামনে নিয়ে আসুন। দুই পা জোড় করে হাত দিয়ে মাটি স্পর্শ করুন এবং কপাল হাঁটুতে ঠেকান।
চক্রপদাসন
এই আসনের ফলে পেটের নিচের অংশের পেশি মজবুত হয়। ঊরুর চর্বি দ্রুত কমে আসে। মেটাবলিজম সিস্টেম ভালো করে। হজম শক্তি বাড়ায়। প্রতিদিন নিয়ম করে এই আসন তিন সেট করলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়।
ম্যাটের ওপর চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই হাত শরীরের দুই পাশে মাটির সঙ্গে সমান্তরালভাবে রাখুন। বাঁ পা মাটিতে সোজা রেখে ডান পা-টি মাটি থেকে প্রায় ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি ওপরে তুলুন। খেয়াল রাখবেন, ব্যায়াম চলাকালীন হাঁটু যেন কোনোভাবেই ভাঁজ না হয়; পা থাকবে একদম টানটান।

এরপর ডান পা দিয়ে শূন্যে বড় বড় বৃত্ত তৈরি করে ঘড়ির কাঁটার দিকে (Clockwise) ঘোরাতে শুরু করুন। লক্ষ্য রাখবেন, পা ঘোরানোর সময় যেন গোড়ালি মাটিতে ঠেকে না যায়। এভাবে ৫-৭ বার ঘোরানোর পর পা নামিয়ে কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম নিন। একইভাবে আবার ডান পা ওপরে তুলে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে (Anti-clockwise) ৫-৭ বার বৃত্তাকারে ঘোরান। ডান পায়ের সেট সম্পন্ন হলে একইভাবে বাঁ পায়েও ব্যায়ামটি আবার করুন।
ধনুরাসন
পেটের মেদ ঝরাতে ধনুরাসন জাদুর মতো কাজ করে। এটি পুরো শরীরের স্ট্রেচ করে। শরীরের নিম্নাংশের মেদ কমায়। তলপেটের পেশি শক্ত করে।
উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাঁটু ভাঁজ করে পা দুটো পিঠের দিকে আনুন। এবার হাত দিয়ে দুই পায়ের গোড়ালি শক্ত করে ধরুন। বুক এবং ঊরু মেঝে থেকে ওপরে তুলুন। শরীরের আকার ধনুকের মতো হবে। পেটের ওপর ভর দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখুন এবং ১৫-২০ সেকেন্ড পর ছেড়ে দিন।
উপবিষ্ট কোণাসন
এই আসনটি নিয়মিত অভ্যাসে ঊরুর ভেতরের দিকের মেদ কমে এবং কুঁচকির পেশি মজবুত হয়। এটি মেরুদণ্ডকে প্রসারিত করে এবং পেটের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যারা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন, তাদের শরীরের আড়ষ্টতা কাটাতে এই যোগাসনটি জাদুর মতো কাজ করে।
প্রথমে একটি ম্যাটের ওপর দুই পা সামনের দিকে ছড়িয়ে মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসুন। এবার দুই পা দুই পাশে যতটা সম্ভব প্রসারিত করুন; যদি দুই পায়ের মাঝে ৯০ ডিগ্রি কোণ তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে তা সবচেয়ে কার্যকর।

পা টানটান রেখে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি শক্ত করে ধরুন। এরপর গভীর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে শরীরের উপরিভাগ সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন এবং কপাল বা চিবুক মেঝেতে স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। এই চূড়ান্ত অবস্থানে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড স্থির থাকুন। এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসুন।
ফাস্টফুড খাবারে নিয়ন্ত্রণ। নিয়মিত শরীরচর্চা শরীরের হাজার রোগের সমাধান। একথা ধ্রব সত্য। কিন্তু যদি আপনার সম্প্রতিকালে কোনো অপারেশন হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কোনো অংশেপুরনো ব্যাথা অনুভব হয়, তাহলে এই ধরনের আসনের আগে অবশ্যই কোনো এক্সপার্টের সঙ্গে যোগাযাগ করে নেওয়া ভালো।