স্কিনকেয়ারের ব্যাপারে আজ মানুষ যথেষ্ট সচেতন! সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করলেই সেসবের নমুনা মেলে হাতেনাতে। কেউ বলছেন আয়ুর্বেদিক আবার কেউ হাত ধরেছেন ভেগান প্রোডাক্টের। মোট কথা, স্কিনে কেমিক্যাল ব্যবহারের মাত্রা কমছে ধীরে ধীরে। Forest Essentials, Kama Ayurveda, Biotique, এবং Soul Tree-এর মত সংস্থার চাহিদা বাড়ছে দিনকে দিন। আগে ধারণা ছিল আয়ুর্বেদের মত অর্থাৎ গাছ, লতা, পাতার মত জিনিসপত্রে জেল্লা ফিরবে না স্কিনের (Natural Beauty Care)। কিন্তু সেই ধারণা আজ একেবারেই ভুল। স্লো বাট স্টেডি! এই প্রবাদ বাক্যটি স্কিনকেয়ারের জন্য একেবারে উপযুক্ত। Vegan Diet: ভেগান নামটা শুনেছেন! কী খান এরা? শুধুই ঘাস-পাতা?
প্রাকৃতিক ক্লিনজার ও স্ক্রাব (Natural Beauty Care with Cleanser and Scrub)
ত্বকের জেল্লা ফেরাতে প্রথম ধাপ হলো নিয়ম করে স্কিন পরিষ্কার করা। আর এর জন্য ক্লিনজারের ব্যবহার করতেই হবে। তবে সেই ক্লিনজার কখনই দোকান থেকে কেনা প্রোডাক্ট নয়। কাঁচা দুধ কিন্তু একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ক্লিনজার। একটা কাচের পাত্রে কয়েকটা ছোট ছোট তুলোর টুকরো রাখুন। তারপর, তাতে একদম কাঁচা দুধ রাখুন। খানিক্ষণ তুলো গুলোকে কাঁচা দুধে ভিজতে দিন। এরপর সেগুলো মুখ ও গলায় আলতো করে বুলিয়ে তারপর পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। এর ফলে রোমকূপের গভীরে জমে থাকা ময়লা দূর হয়। এছাড়াও সপ্তাহে অন্তত দু’দিন চালের গুঁড়ো ও মধুর মিশ্রণ (কাঁচা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে) দিয়ে স্ক্রাবিং করলে ত্বকের মরা কোশ দূর হয় এবং ত্বক নরম থাকে।
হলুদের জাদুকরী ছোঁয়া (Natural Beauty Care with Turmeric)
ছোটবেলায় সরস্বতী পুজোতে গায়ে হলুদ মেখে স্নানের রীতি নিশ্চই মনে আছে ? যোকোনো শুভ কাজের আগেও গায়ে হলুদ মেখে স্নানের চল রয়েছে। এই যেমন ধরুন বিয়ে, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি। এর কারণ রূপচর্চায় হলুদের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। হলুদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের দাগছোপ দূর করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। বিশেষ করে, যাদের মুখে ব্রণ বেশি মাত্রায় হয় বা ধরুন মুখে কালো ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে। তাদের অবশ্যই হলুদ মাখা প্রয়োজন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন ?
এক চামচ বেসন, এক চিমটি কাঁচা হলুদ বাটা এবং সামান্য টক দই মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। এটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। হলুদের ‘কারকিউমিন’ উপাদান ত্বকের ভেতর থেকে জেল্লা ফিরিয়ে আনে। যেহেতু প্রাকৃতিক উপায়ে এটি তৈরি। ফলে এর কোনো সাইড এফেক্ট থাকার চান্সই নেই।

অ্যালোভেরা ও গোলাপ জল
অনেকেই রয়েছেন, যাদের স্কিনে জলের পরিমাণ তুলোনামূলক কম। তাই তাদের অবশ্যই ত্বকের আর্দ্রতা বা হাইড্রেশন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। না হলে স্কিন খুব অল্প সময়ে ড্রাই হয়ে যায় বা শুকিয়ে যায়। এর ফলে লাল লাল ব়্যাশ দেখা দেয়। যেগুলো একটা সময়ের পর স্কিনে গভীরভাবে ছাপ ফেলে। এর থেকে প্রতিকার পেতে রোজ নিয়মিত টাটকা অ্যালোভেরা জেল এবং গোলাপ জলের মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের জ্বালাভাব কমায় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এই মিশ্রণ টোনার হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বকের পিএইচ (pH) ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং ত্বক সতেজ দেখায়।
ফল ও মধুর ব্যবহার
পাকা পেঁপে বা কলার মাস্ক ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর। ফলের এনজাইম ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ব্লিচ করে। এছাড়া মধুর সাথে কয়েক ফোঁটা পাতি লেবুর রস মিশিয়ে মাখলে ত্বকের রোদে পোড়া ভাব (Sun tan) দূর হয়।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা
ত্বকের জেল্লা কেবল বাইরের প্রলেপে আসে না, এর জন্য অভ্যন্তরীণ সুস্বাস্থ্য প্রয়োজন।

১. পর্যাপ্ত জল: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল খান।
২. সুষম আহার: ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল (আমলকি, লেবু) এবং সবুজ শাকসবজি খান।
৩. ঘুম: রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা একটানা ঘুম ত্বকের কোষ মেরামত এবং প্রয়োজনে নতুন করে তৈরিতে সাহায্য করে।
পরিশেষে, ঘরোয়া প্রতিকারগুলি ধৈর্য ধরে নিয়মিত ব্যবহার করা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক উপাদানে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তাই নিয়মিত যত্নে আপনি ফিরে পেতে পারেন আপনার হারানো জেল্লা।