শীতকালে সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে ঘরোয়া উপায়ে ইমিউনিটি বাড়ান। ভিটামিন-সি যুক্ত ফল, আদা-রসুন-হলুদ খান। ভেষজ চা ও গরম দুধে হলুদ (Winter Immunity) মিশিয়ে খেতে পারেন নিয়মিত। প্রতিদিন ব্যায়াম, প্রাণায়াম, ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম আর শীতের হালকা রোদ লাগান শরীরে। সকালে খালি পেটে কাঁচা হলুদের সঙ্গে মধুও খেতে পারেন। সর্দি হলে কালোজিরের পুটলি তৈরি করে মাঝে মাঝে সেটার একটু গন্ধটা নিতে পারেন।
জাঁকিয়ে পড়েছে শীত। কনকনে ঠান্ডায় খেতে-ঘুরতে কার না ভালো লাগে। তবে, অনেকেই আছেন একটু ঠান্ডা পড়তেই কাবু হয়ে পড়েন। সেকারণেই প্রথম থেকেই একটু নিজের যত্ন নিতে হবে। কারণ, শীত বাড়লেই সর্দি-কাশি, জ্বর দেখা দেয়। তাই শুরু থেকেই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উপায়গুলি অনুসরণ করা উচিত। বাজারের কিছু সস্তার ইমিউনিটি বুস্টার পাওয়া যায়। তা কিন্তু কোনো কাজে লাগে না। উল্টে শরীরের আরও ক্ষতিই করে। তাই ঘরোয়া উপায়ে বাড়িতেই তৈরি করুন, ইমিউনিটি বুস্টার। Blue Tea Weight Loss: রোজ সকালে এক কাপ ব্লু টি, কমবে ওজন
মধু খান রোজ সকালে (Winter Immunity boost with honey)
রোজ সকালে খালি পেটে একটা ছোট কোয়া হলুদের সঙ্গে এক চামচ মধু খান। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই মিশ্রণকে অনেক সময় ‘স্বর্ণ মধু’ বা ‘গোল্ডেন হানি’ বলা হয়। হলুদের প্রধান উপাদান হল কারকিউমিন (Curcumin) । এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রদাহবিরোধী (Anti-inflammatory) উপাদান।এরসঙ্গে মধুতে প্রাকৃতিক এনজাইম এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকে। যখন এই দুটি উপাদান একত্রিত হয়, তখন তারা একে অপরের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরের কোষে কারকিউমিন শোষণে সাহায্য করে। ফলে হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখার পাশাপাশি, ত্বকের উজ্বলতা বাড়ায়। এছাড়াও কাঁচা হলুদ ও মধু শরীরের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি কৃত্রিম অ্যান্টি-বায়োটিকের মতো পাকস্থলীর ভালো ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতি করে না।
পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস
শীতকালীন শাকসবজি ও ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল যেমন— কমলালেবু, পাতিলেবু এবং আমলকী নিয়মিত খান। রান্নায় আদা, রসুন এবং হলুদের ব্যবহার বাড়ান; এগুলি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক হিসেবে কাজ করে শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখে।
ভেষজ পানীয়
ঠাণ্ডা পানীয় বর্জন করে উষ্ণ জল খাবার অভ্যাস করুন। দিনে অন্তত একবার আদা, তুলসি পাতা, লবঙ্গ এবং গোলমরিচ দিয়ে তৈরি ভেষজ চা বা ‘ক্বাথ’ খান। এটি গলার সংক্রমণ দূর করতে ও ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।
শরীরচর্চা ও যোগব্যায়াম
শীতের আলস্য কাটিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা যোগাসন করুন। প্রাণায়াম করলে শরীরের অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।
পর্যাপ্ত ঘুম ও রোদের পরশ
শরীরের কোষ পুনর্গঠনের জন্য রাতে ৭-৮ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। এছাড়া ভিটামিন-ডি এর অভাব মেটাতে প্রতিদিন কিছুক্ষণ গায়ে রোদে লাগান।
কালোজিরার পুটুলি ব্যবহার
যদি সর্দি হয়, তাহলে কালোজিরার পুটুলি বানিয়ে তা ব্যবহার করতে পারেন। একটা রুমালে, এক চামচ কালোজিরা নিন। সেটাকে একটা রুমালে ভালো করে পেঁচিয়ে সেটার গন্ধ বার বার নিতে থাকুন। দেখবেন, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা অনেকটা কমে যাবে।