আজকাল একটা শব্দ ভীষণভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। বিশেষ করে যারা, একটু ফেসবুক-ইনস্টাতে দীর্ঘ সময় কাটান।তাদের কাছে বেশ পরিচিত। এছাড়াও হলিউড-বলিউডের হালহকিকতের খোঁজখবর রাখেন, তাদের কাছে তো আর নতুন কিছুই নয়। বছর খানেক আগেও এই ভেগান শব্দ খুব কম লোকই জানতেন। কিন্তু এখন দেখুন…এতক্ষনে নিশ্চয়ই আপনার মনের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, কী এমন শব্দ তাই তো ? ভেগান…ভেগান…ভেগান। সেই নাম উঠে আসছে কোনও ডায়েটে (Vegan Diet) কিংবা কখনও স্কিনকেয়ারে। Vegan Celebrities: বলিউডের ১০ সেলেব, ছেড়েছেন মাছ-মাংস
কী এই ভেগান ? চলুন এই বিষয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। ভেগান কথার প্রকৃত অর্থ হল, এমন এক ব্যক্তি যিনি যতটা সম্ভব, প্রাণীজ দ্রব্য থেকে নিজেকে অনেক অনেক দূরে রাখেন। যেমন দুমদাম করে এমন কিছু খাবার খান না, যার উৎস্য কোনও প্রাণী। মাছ-মাংস-ডিম তো নয়ই। এমনকি, দুধ, মাখন, পনিরও না। ভেজ যারা খান, ভেগান তাদের থেকে আসলে আর এক ধাপ এগিয়ে। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, ভেগান ডায়েট যারা পুরোপুরি মেনে চলেন, তারা মধু পর্যন্ত খান না।

শুধু কি খাবার। পোশাকের ক্ষেত্রেও অনেক নিয়ম ফলো করে চলেন। এই যেমন, কোনো প্রাণীর চামড়া থেকে তৈরি জুতো, জ্যাকেট তো পরেনই না, একইসঙ্গে চামড়া থেকে তৈরি কোনো ব্যাগও ব্যবহার করেন না। একাধিক নামজাদা সংস্থার ব্যাগ রয়েছে, যা বাজারে লাখ লাখ টাকায় কিনতে পাওয়া যায়, যা তৈরি হয় কোনও প্রাণীর শরীরের চামড়া থেকে। সেসব শখের প্রতিও ইতি টেনে দিয়েছেন এই সমস্ত মানুষ।
এছাড়াও বিনোদনের ক্ষেত্রে যেখানে প্রাণীদের ব্যবহার করা হয় সেগুলিেকে সমর্থন করেন না। এই যেমন ধরুন সার্কাস-চিড়িয়াখানা ইত্যাদি। এছাড়াও স্পেনের বুল ফাইটিং, যেখানে একদল লোক একটি সুস্থ স্বাভাবিক ষাঁড়কে খেপিয়ে তোলে। তারপর সে যখন গুঁতো মারতে আসে তখন পাগলের মতো দৌড়াতে শুরু করে। এই ধরণের বিনোদনের তীব্র বিরোধিতায় থাকেন ভেগানরা।
ভেগানরা কী খাবার খান ? (Vegan Diet Food)
ভেগানরা উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবারের উপরেই নির্ভর করে থাকেন। এই যেমন, শাকসবজি, শস্যদানা, শিম বা ডাল জাতীয় খাবার। পাশাপাশি, বাদাম-বীজ তো রযেছেই। এছাড়াও নিয়োমিত ফল খেয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঞ্চয় করে।
কেন ভেগান হবেন? (Why you become a Vegan)
ভেগান হওয়ার প্রধান কারণই হল জীবনের উপলব্ধি। আপনি আপনার জীবন থেকে যা পাবেন, বা আরও সহজে বলা ভালো, জীবন আপনাকে যা শেখাবে। সেখান থেকেই আপনি ভেগান হবেন কি না তা নির্ধারণ হবে। আসুন বিষয়টি নিয়ে আরও একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
নৈতিকতা এবং প্রাণীর কল্যাণ এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ। অনেকে বিশ্বাস করেন যে প্রাণীরা সংবেদনশীল জীব এবং তাদের বেঁচে থাকার ও স্বাধীন থাকার অধিকার রয়েছে। তারা কলকারখানায় পশুপালন (Factory farming) এবং প্রতি বছর কোটি কোটি প্রাণী হত্যার প্রতিবাদে ভেগানিজমের এই পথ বেছে নিয়েছেন।

স্বাস্থ্যগত উপকারিতা একটি সুপরিকল্পিত ভেগান ডায়েট ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিনে ভরপুর থাকে।
Vegan ডায়েট শরীরের জন্য মেনে চলতে ক্ষতি কী:
- হৃদরোগ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
- নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পরিবেশ পশুপ্রাণীর ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিরামিষাশী খাদ্যাভ্যাসে যারা নিজেদেরকে মানিয়ে নিয়েছেন, তাদের ডায়েট চার্টকে বলাই যেতে পারে একেবারে পরিবেশবান্ধব। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, এই দুনিয়ার সবাই যদি নিরামিষাশী হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ব জুড়ে কৃষিজমির ব্যবহার প্রায় ৭৫% কমে যেতে পারে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং ইইউ-এর আয়তনের সমান। তাহলে ভাবুন এতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম কতটা সুরক্ষিত হবে!