আদা জল (Ginger Water) খান, আর ম্যাজিক দেখুন হবে শরীরে। সামান্য সর্দি-কাশি হলেই অনেকে অ্যান্টিবায়োটিকের পেছনে ছোটেন। বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো ওই ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখে যায়। পরবর্তী সময় গুরুতর কোনো রোগ শরীরে বাসা বাধলে, তখন আর ওষুধ কাজ করতে পারে না। এর ফলে ওষুধের ডোজ বাড়াতে হয়। যার প্রভাব, লিভার-কিডনিতে পরে। এর থেকে যদি ঘরোয়া উপায় একটু নিয়ম মানা যায়, তাহলে শরীর ভেতর থেকে অনেক বেশি স্ট্রং হয়। রান্নাঘরে থাকা আদার অনেক গুণ আছে। নিয়ম করে ৬০ দিন যদি আদা (Ginger Water) খাওয়া যায়, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান খুব সহজেই হয়ে যায়।
আদা খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই এর প্রধান সক্রিয় উপাদান ‘জিনজারোল’ (Gingerol) রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। বমি বমি ভাব নিমেষেই কেটে যায়। হজম প্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং পেটের অস্বস্তি মুহূর্তেই প্রশমিত হতে শুরু করে। Molecular radiance: প্রসাধন থেকে চিকিৎসা, আণবিক বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় ত্বকের সুরক্ষা
কীভাবে এবং কতটা আদা খাবেন রোজ (Ginger Water Quantity)
মনে রাখতে হবে, যেকোনো ভেষজ উপায় সুস্থ থাকার জন্য কিছু নিয়ম থাকে। যেগুলো নিয়মিত ফলো করতে হয়। সঠিক সময়, নির্দিষ্ট পরিমাণ যদি গ্রহণ করা যায় তাহলেই শরীরকে ভেতর থেকে চনমনে করা যায়। একদিন-দুদিন খেলাম, আর খেলাম না। আবার পরে ইচ্ছে হল, একটু খেলাম এমনটা করা চলবে না। এই প্রবণতা থাকলে, কোনোভাবেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তো বাড়বেই না, উল্টে এর থেকে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এরজন্য নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী।
- রোজ সকালে খালি পেটে ২-৩ গ্রাম আদা একটু মাসান্য থেতো করে গরম জলে ফুটিয়ে নিতে হবে।
- জল মোটামুটি ঠান্ডা হয়ে এলে তারপর ভালো করে ছেকে সেই জল খেতে হবে।
- যেদিন থেকে শুরু করছেন, সেদিন থেকে টানা ৬০ দিন এই জল নিয়ম করে খেতে হবে।
নিয়মিত আদার রস খেলে শরীরের ছোটখাটো ব্যাথাগুলো ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, যাকে বলে ইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)।

প্রথম দিন থেকেই আদা খাওয়ার ফলে শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী (Anti-inflammatory) উপাদান শরীর গ্রহণ করে। যা কোন ধরণের ব্যথার উপসম হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। এই যেমন-
- দাঁত বা মাড়ির ব্যথা
- গাঁটের ব্যথা বা আর্থারাইটিসের সমস্যা
- মাথা ব্যাথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা
গবেষণায় দেখা গেছে, টানা চার সপ্তাহ যদি সকালে ২-৩ গ্রাম আদা খাওয়া যায় তাহলে পেশির ব্যথা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায় এবং বাতের ব্যথায় (Arthritis) উল্লেখযোগ্য আরাম পাওয়া যায়। রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় যে, শরীরের ইনফ্লামেশন মার্কার বা প্রদাহের সূচক প্রায় ২৩ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত নিচে নেমে আসে। Hair Moisturizer : চুলের ময়েশ্চারাইজার নারকেল তেল, দূর করবে খুশকি
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টানা আদার রস খাওয়ার ফলে, বিপাকীয় (Metabolic) পরিবর্তন চলে আসে। খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা (Fasting Blood Sugar) ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। গ্লুকোজ প্রক্রিয়াকরণে আরও দক্ষ হয়ে ওঠে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়। যদি ডায়েবেটিসে আক্রান্ত কোন ব্যাক্তি এই নিয়ম নিয়মিত ফলো করেন, তাহলে সেক্ষেত্রেও ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এবং ওষুধের ডোজের পরিমাণ অনেকটাই কমে আসে। কারণ শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। Vegan Pancake: বাঙালির পিঠে-পুলির ঐতিহ্যে নতুন 5 সংযোজন
টানা ৬০ দিন ধরে আদার রস খাওয়ার ফলে, শরীরে একটা বড়সড় পরিবর্তন উল্লেখযোগ্যভাবে চলে আসে।এমনকি ক্ষতিকারক এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল ১০ শতাংশ হ্রাস পায়, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পাশাপাশি সবথেকে বড় পাওনা, এই দুমাসের মধ্যে ২-৩ কিলো ওজন কম হয়ে আসে।
২ মাস ধরে আদা খাওয়ার ফলে যে উপকারগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো জানলে চমকে যাবেন।
আদা জলের উপকার কী? (Ginger Water Advantage)
- শরীরের যেকোনো ধরনের ব্যাথা কমে আসে।
- ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক হয়, সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- হজমশক্তি বাড়ে।
- বাড়তি মেদ কমে, ফলে শরীরের ওজন কমে
তবে মনে রাখতে হবে, এই টোটকা কিন্তু মাসের পর মাস খেয়ে গেলে চলবে না। প্রথম ২ মাস খাওয়ার পর মাঝে কম করে ৪৫ দিনের একটা ব্রেক নিতে হবে। তারপর আবার, ঠিক ৪৬ দিন থেকেই আবার শুরু করতে হবে। এভাবেই আদা জল খেয়ে শরীরের ব্যাথা কমিয়ে আরও চনমনে হয়ে উঠুন। Millet Ice Cream: ভেগান? মিলেটের আইসক্রিম বানিয়ে খান