গরমকালে ঘাম হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। তবে অনেকেই আছেন যাদের একটু ঘাম হলেই গায়ে ভীষণ দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। সুগন্ধী (Natural Deodorant) ব্যবহারে গায়ের গন্ধ ঢেকে দেওয়া যায়। কিন্তু কখনোই দূর করা যায় না। বরং ঘরোয়া কিছু টোটকা মানলেই গায়ের দুর্গন্ধ খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ঘামের দুর্গন্ধ কেন হয় ? (Natural Deodorant Reveal)
সেইভাবে দেখতে গেলে ঘামের কিন্তু নিজস্ব কোনো গন্ধ নেই। অনেকেই মনে করেন, বেশি ঘামের কারণে হয়তো গায়ে দুর্গন্ধ হয়। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ঘামে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আর ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। অন্যদিকে স্কিনে থাকে ব্যাকটেরিয়া। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া যখন ঘামের সংস্পর্শে আসে এবং ঘামে থাকা প্রোটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিডকে ভেঙে ফেলে, তখনই দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। গরমের সময় আর্দ্রতা বেশি থাকে। এই সময় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ফলে গন্ধ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। Pumpkin Leaves: কুমড়ো শাক খেলেই বাড়বে ত্বকের জেল্লা

ঘামের গন্ধ দূর করার কার্যকরী ঘরোয়া টোটকা (Natural Deodorant Usage)
ঘরোয়া কিছু টোটকা অনুসরণ করে চললেই এই দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ঘরোয়া উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে, বেকিং সোডা, ফিটকিরি, লেবু, নিম বা পুদিনা পাতার মতো ভেষজ উপাদান।
লেবুর রসের ব্যবহার: ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য লেবুর রস কিন্তু ভীষণ কার্যকরী একটি ভেষজ উপাদান। একটা গোটা পাতি লেবুর রস একটু সামান্য জলে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর শরীরের যে অংশগুলোতে গন্ধ বেশি হয় সেখানে একটা ব্রাশ দিয়ে লাগিয়ে রাখতে হবে ১৫-২০ মিনিট। মোটামুটি শুকিয়ে এলে তারপর জল দিয়ে ধুয়ে স্নান করে নিলেই হবে। Hair Moisturizer : চুলের ময়েশ্চারাইজার নারকেল তেল, দূর করবে খুশকি
লেবুতে ৫-৮ শতাংশ সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে। যা ত্বকের ph-মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে, খারাপ ব্যাকটেরিয়া বেশি পরিমাণে জন্মাতে পারে না।

বেকিং সোডা: বেকিং সোডা ত্বকের ph নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। শরীরের অতিরিক্ত ঘাম শুষে নিতে এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর । সেইকারণে অনেকেই বেকিং সোডাকে প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট বলে থাকেন। সামান্য বেকিং সোডার সঙ্গে একটু জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এরপর সেই পেস্ট ভালো করে, শরীরের বিভিন্ন অংশে ১০ মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখতে হবে। এই যেমন- বোগলে, ঘাড় এবং গলার নীচের অংশে। এরপর জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিলেই গায়ের দুর্গন্ধ দূরে পালাবে। পাশাপাশি, বাড়তি ঘামের পরিমাণও ধীরে ধীরে কমে আসবে। Ginger Mint: পেটের সমস্যা সমাধানে আদা ও পুদিনার 4 রেসিপি
নিম পাতা এবং ফিটকিরি: খুব ভালো হয়, যদি রোজ এক বালতি জলে একটু নিম পাতা ফুটিয়ে স্নান করা যায়। না হলে হাফ লিটার জলে এক গোছা নিম পাতা ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে এক বালতি জলে মিশিয়ে নিলেও হবে। এরপর জল দিয়েই স্নান করে নিতে হবে। স্নানের পরে ভেজা গায়ে শরীরে বিভিন্ন অংশগুলোতে ফিটকিরি একটু লাগানোর পর গা মুছে নিতে হবে। নিমপাতা শরীরে টক্সিন দূর করে। একইসঙ্গে খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে। অন্যদিকে ফিটকিরি অ্যান্টি-সেপটিক এবং অ্যাস্ট্রিজেন্টের দারুন কাজ করে।
জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন (Natural Deodorant on Lifestyle Changes)
ঘামের গন্ধ কেবল বাইরে থেকে পরিষ্কার করলেই যায় না, ভেতর থেকেও যত্ন নিতে হয়:
- পর্যাপ্ত জল খান: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল খেতে হবে। জল শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন ঘামের মাধ্যমে বের করে দিতে সাহায্য করে, যা গন্ধ কমায়।
- পোশাক নির্বাচন: গরমে সিন্থেটিক বা সিল্কের কাপড় এড়িয়ে চলুন। সুতির হালকা রঙের পোশাক পরুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
- খাবারে নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ঝাল, মশলাযুক্ত খাবার, রসুন এবং পেঁয়াজ ঘামের দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দেয়। গরমে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খান।
- ক্যাফেইন বর্জন: অতিরিক্ত চা বা কফি শরীরকে উত্তেজিত করে ঘাম বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ডাবের জল বা ফলের রস খান।
ঘামের দুর্গন্ধ কোনো স্থায়ী রোগ নয়। ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে আপনি কোনো রাসায়নিক ডিওডোরেন্ট ছাড়াই নিজেকে সতেজ রাখতে পারবেন। মনে রাখবেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হলো সুস্থ ও সুগন্ধময় থাকার আসল রহস্য।